মঙ্গলবার, ২৬ জুন, ২০১২

SUNFUN ---- SAN FRANSISCO IN A DAY

সাউথ লুপ না সাউথ লোপ? অন্ধকার রাত/ গভীর রাত/ আমরা প্রায় একঘন্টা আগে বেরিয়েছি AIRPORT থেকে/ গন্তব্য ১২৬০ সাউথ লুপ/ আমাদের সাথে গুগুলদার ছাপানো ম্যাপ/ সবই তো ঠিকঠাক, তবু সাউথ লুপের দেখা নেই/ সাব্বু ঘুমোচ্ছে মামনকে বললাম- এইবার আমার হাতে ছেড়ে দে/ আমি দেখি? গাড়িটা ঘোরা, একটু আগে দেখলাম না হলিডে ইন, ওখানে ঢুকিয়ে দে গাড়ি/
পাপা, আমরা তো ওখানে থাকব না/
ঢোকানা গাড়িটা, তারপর দেখি/ রাত কত হযেছে দেখেছিস?
সোজা ঢুকে পড়লাম লবিতে/ দেখি জনা তিনেক বসে TV দেখছে/ চোখে পড়ল ম্যানেজার ইন্ডিয়ান/ পারেখ/ তা উনি দেখেও দেখলেন না/ মনে পড়ে গেল AIR ইন্ডিয়ার প্যাটেলের কথা/ শিকাগোতে উনি কি রকম হেল্প করেছিলেন! ধন্যবাদ দিতে গেলে বলেছিলেন: এটা আমার কাজ/ দেখা যাক, এখানে কি হেল্প পাই/ যে ছেলেটি এগিয়ে এলো তাকেই বললাম: ভাই, আমরা তোমাদের কাস্টমার নই/ EXTENDED  STAY AMERICA -য় যাব/ একটা ছোট্ট বাচ্চা আছে আমাদের সাথে, আমরা পথ হারিয়েছি/
ছেলেটি কিন্তু কোনো কথা বলল না/ ঠিকানাটা চেয়ে নিল হাত বাড়িয়ে/ কম্পুটারে দেখে একটা প্রিন্ট বার করে দিল/ বললাম চেন? মাথা নেড়ে আমাকে বলল লেফট রাইট ইত্যাদি/ চলো/
এইবার ওর কথা মত চলতে গিয়ে দেখলাম একই রাস্তায় যাচ্ছি/ সাউথ লুপ পাওয়া গেল না, অথচ নর্থ লুপ চলছে তো চলছেই/ নাহ, আবার একটা হোটেল দেখতে পেয়ে মামানকে বললাম এখানে ঢুকে পর আবার/
আলো এদিকে খুব ঘাবড়ে গেছে/ এত রাত, একটা লোক নেই রাস্তায়.... সাব্বুকে একদম বুকে জড়িয়ে বসে আছে জড়োসর হযে/ বললাম ঘাবরিও না, পেয়ে যাব, তোমাদের রাস্তায় রাখব না/ এইবার না পেলে এখানেই থেকে যাব না হয় আজকের রাতটা/
এখানে ছেলেটি একা বসে আছে/ আমাকে দেখেই উঠে এলো/ বললাম/ সে দেখে বলল: আপনাকে খুব টেন্স লাগছে/ ঘাবড়াবেন না, আপনারা একদম কাছেই আছেন/ সে আমাকে রাস্তা বাতলাতে গেলে বললাম- আমার মেয়ে গাড়ি চালাচ্ছে, যদি একটু বলে দাও ওকে, প্লিজ/
ভারী ভালো ছেলেটি/ আমার সঙ্গে বেরিয়ে এলো/ বলে দিল এখান থেকে বেরিয়ে ডান দিকে যাবে, রাস্তাটা ছাড়বে না কিন্তু, ঠিক পৌছে যাবে/ ধন্যবাদ বলে বেরিয়ে পড়লাম/ চলছিত চলছিই/ রাস্তায় একজন মেয়ে সিকিউরিটি/ আবার থামলাম/ উনিও আশ্বাস দিলেন আর দুটি বাড়ি পরেই/ এইত, বড় বড় করে লেখা 1260 , SOUTH LOOP / বাঁচলাম/


এর আগে রাস্তা থেকে যাকে আমরা ফোন করেছিলাম সেই মেয়েটি বসে আছে/ আমরা রাস্তা হারিয়ে যেখানে ছিলাম, সেখান থেকে আমাদের সঠিক দিশা দিতে পারেনি মেয়েটি/ এক গাল হেসে বলল SO, YOU FOUND US !

এইবার মাল পত্র নামানোর পালা/ উফ, আমরা ছোট গাড়ি নিয়েছিলাম/ ছোট বলতে আমাদের নীলুর তুলনায় ছোট/ আমাদের সাথে যে ট্রাভেল সিস্টেম আছে, সেটা কিছুতেই ধরানো যাচ্ছিল না/ মামানের একটা বড় ব্যাগ, আমাদের একটা, সাব্বুর অনেক গুলো/ শেষ পর্যন্ত যেমন করে ঠেসে ঠুসে ধরালাম, সেটা কলকাতা বোম্বেতে চলবে, এখানে চলে না/ ডানপাশে কিছুই দেখা যাচ্ছে না, পেছনেও না/ ভাগ্য ভালো যে রাত তখন বারোটা/ নাহলে নির্ঘাত পুলিস ধরত/

সাব্বু সঙ্গে থাকলে আমরা সব সময় সাথে একটু খাবার রাখি/ আর EXTENDED STAY হোটেলগুলোতে কিচেন থাকে খাসা/ একদম কাঁটা চামচ সহ/ বাচ্চার খাবার  যোগার করে নেওয়া সোজা/ এইবার একটু পিঠ টান করে নেওয়া যাবে/ মানোসিজের নতুন চাকরি, ও আসতে পারেনি/ আমরা দুজন, আর মামন, আর সাব্বু/ মনসিজ খুব খুত খুত করছিল/ আমি থাকলে ভালো হত, তোমরা যখন পৌছবে, অনেক রাত ইত্যাদি/ তা আমার মেয়েটি সাক্ষাত LADY SUPERMAN , SUPERWOMAN বলা যাবে না! তাকে ঠেকানো গেল না/ আমরা একসাথে থাকব তিনদিন, তারপর আমরা চলে আসবো সাব্বুকে নিয়ে, মেয়ে থেকে যাবে, তার কনফারেন্স আছে/ আমরা কত বারণ করলাম, শুনলো না/ শেষ পর্যন্ত ব্রহ্মাস্ত্র ছাড়ল আমি অত দিন মাম্মোকে ছেড়ে থাকতে পারব না/ আমাদের হার মানতেই হলো/
আজকে ফিরে এসে মনে হচ্ছে, ভালইত হলো/ এইত এবার চলে যাব, এই রকম জোর যদি না করত মামন, যাওয়া হত না, প্রশান্তদার সাথে দেখাও  হত না/ অনেক সাগর দেখেছি, প্রশান্ত মহাসাগর দেখা হয় নি/ এইবার দেখা হযে গেল/ সবাই বলে না সেরা সাগর, সত্যি/

পরদিন সকালে আমি আর মামন বেরোলাম/ এখানকার সংসারের জন্য টুক টাক যা দরকার এনে নিতে হবে/ প্রথম প্রয়োজন জল, তার সাথে একটু ওষুধের খোজ করা দরকার। সাব্বুর খুব ঠান্ডা লেগে গেছে। আর এখন দেখা গেল, কান ফুটো করে দুল পড়েছে সেই দু মাস আগে, সেখানে রক্ত। ব্যথা পেল, না কি --- হাতের কাছে একটা ডাক্তারের যোগাড় থাকা চাই। এখানে ডাক্তার দেখানো বেশ ঝকমারি।নাম ধাম কার্ড ইত্যাদি জেনে নিয়ে তারপর জানতে চাইবে অসুবিধে কি, ইন্সুরান্সের কি হাল। তারপর ডাক্তার ফোন করবে যদি মনে করে এটা দেখা উচিত। আমাদের সাথে ড: আলো ঘোষ দস্তিদার আছেন। উনি ওনার মতে চিকিত্সা করছেন।সর্দি লেগেছে তো হাতে,পায়ে বুকে পিঠে সর্ষের তেল মাখানো হবে/ কানটা  পরিষ্কার করে নীয়স্পরিন (আমার চোখেরটা আছে) লাগানো হবে/ বলতেই হবে সাব্বু ভালো ছিল, এখনো ভালই আছে/

বেরিয়ে রাস্তায় নেমে আমাদের প্রথম প্রশ্ন ছিল আমরা কাল রাতে পেলাম না কেন? প্রথম জবাব সোজা/ দেখা গেল, আমরা যেদিক থেকে এসেছিলাম, সেদিক থেকে দেখা যায় না SOUTH LOOP লেখাটা। আর দ্বিতীয় কারণ আমরা অত রাতে খুব আস্তে গাড়ি চালাচ্ছিলাম/

মেয়ে কাল আমায় বলেনি, আজ বলল আমাদের AIRPORT -এ বসিয়ে ও কোথায় গেছিল/ আমাদের গাড়ি ভাড়া নেওয়া হযেছিল / সেটাতো AIRPORT থেকে দুরে, সেখানে গেছিলাম/
বললাম জানি, রাত তখন বারোটা/ তুমি বলনি মাকে লুকোবে বলে/ আমি তো বসে নেই, আমি খবর করে জেনে নিয়েছিলাম/ সাব্বু তখন এত কাঁদছিল, দেখলাম আসে পাশের মেয়ে মায়েরা চলে এসেছে/ একটি মেয়েত --- যে ব্যাগেজ ক্লেম এন্ক্লোজারে ছিল, সেত ওকে আদর করে কান্না থামানোর জন্য অনেকক্ষণ মার সাথে আর ওর সাথে কথা বলছিল/ ওদেরকে একটু কথা বলতে দিয়ে আমি এসে দেখে গেলাম কি ব্যবস্থা/ এখান থেকে শাটল যায়, সেটাতেই গেছ তুমি?
আমি সেই ফাঁকে বাইরে এসে পুলিসের সাথে কথা বললাম/ গাড়ি তো রাখতে দেয় না/ জানতে চাইলাম, রাস্তা কেমন, পরিবেশ কেমন ইত্যাদি/ AIRPORT এর আশপাশটা ওত ভালো নয়/ তা সব সহরেই একই ছবি/ আমাদের কি লেনা দেনা আছে বল?
তার সাথে টুক করে একটা সিগারেট ফুকেছ বল/
আমাকে একটু কুট করে কেটে নিল/ সুযোগ পেলে ছাড়ে না!

OAKLAND , আমরা OAKLAND -এ এসেছি/ মামানের কনফারেন্স বার্কলেতে/ বার্কলে এখান থেকে কাছেই/ হুট করে ঠিক করাতো, আমদের ফ্লাইট বেশ গোলমেলে ছিল/ HOUSTON থেকে সল্ট লেক সিটি, সেখান থেকে লস এঞ্জেলেস, সেখান থেকে ওকল্যান্ড/ তিন বার চেঞ্জ, সব মিলিয়ে সকাল এগারটায় বেরিয়ে আমরা রাত এগারটায় পৌছেছিলাম/ একটা আট মাসের বাচ্চার জন্য একটু লম্বাই হযে গেছে/ ওকে দোষ দেওয়া যায় না/ পুরো রাস্তাটাই এত ভালো, লক্ষী হযে ছিল/ রাত হযে গেলে নিজের বিছানায় শুতে না পেরে রেগে গেছিল/ পথে কত রকম আবহাওয়া পেয়েছে বল? সল্ট লেক সিটিতে ঠান্ডা ছিল কি! নামার সময় আমরা সব পাহাড়ে বরফ দেখেছি/ HOUSTON -এ ৯৭ ডিগ্রী ছিল/ সল্ট লেকে ৫০/ লস এঞ্জেলেস -ও ঠান্ডাই, ছিল, ওকল্যান্ড ৫৬ / সবতো সযে নিয়েছে বল! তবে আমাদের সাথে ওর খাবার থাকায়, খাওয়ার অসুবিধে হয়নি/ এইটুকু বয়সে কত ঘুরে ফেলল! ও কিন্তু বেড়াতে খুব ভালোবাসে/

পাপা, সল্ট লেক সিটি  AIRPORT -এ সেই ছোট্ট  বাচ্চাটা!ও তো সাব্বুর থেকে অনেক ছোট/
তা ঠিক, মাত্র সতের দিন!আমরা একটা ঘেরা জায়গায় বসে নিজেদের খাওয়া আর সাব্বুর খাওয়া নিয়ে ব্যস্ত/ বেশ ঠান্ডা/ এরা যদিও টেম্পারেচার  ভালই রেখেছে, আমাদের জন্য একটু ঠান্ডাই/ আমরা খেয়ালই  করিনি কখন  ওরা এসে বসেছে/ এই টুকু ছোট্ট/ মা বেশ মোটু , বাবার  এই লম্বা একটা বেনি/ আলো  আবার বল্লো দেখনা উল্টো বাঁধা/ মনে মনে বললাম  বেনীর আবার উল্টো সোজা কি! দেখলাম ছেলেটি-ই  বোতলে করে দুধ  খাওয়াচ্ছে/ মা একমনে একটা  ডাবল ডেকার শেষ করছে/ এই ঠান্ডায় মনে হলো বাচ্চাটা যেন ঠিক মত মোড়া নয়/ আলো তো  পারলে মেয়েটিকে গিয়ে বকা দিয়ে আসে!

আমরা এসে পরেছি/ এখানকার মল-এ বেশ একটা পার্সোনাল টাচ আছে দেখছি/ সবাই কাউন্টারে দাড়িয়ে দু মিনিট কথা বলে নিচ্ছে/ একটু শুনলেই বোঝা যায় পাড়ার আড্ডার মত কথাবার্তা/ ভালো লাগলো/ ছোট সহরে এই একটা সুবিধে/ এ দেশটাতে লোকেরা খুব একা / বড় সহরে এই একাকিত্ব যত বাড়ছে, তত বাড়ছে "GAMES "/ লোকে IPOD ,IPAD ,হেনা ফোন, তেনা ফোনের পেছনে লুকিয়ে পড়তে চায়/ অথচ মুখোমুখি হলে  HI  আর "হাস গিওন"--- পড়ে জেনেছি এটা হলো "WHAT 'S GOING ON " এর অপভ্রংস-- বলার শেষ নেই/ সবাই সবাইকে বলছে, যান্ত্রিক ভাবে বলে যায়, কেউ জবাবের আশা করে না/ মুখে এরা সবাই বেশ একটা ঝোলা হাসি ঝুলিয়ে রাখে/


মনে পরে গেল আমার পাশের সিটে বসা সুন্দর মেয়েটির কথা/ ভারী সুন্দর দেখতে, ভারী শোভন পোশাক আশাক/ বসে পরে ফোন বন্ধ করলো/ দুটো কম্পিউটার নিয়ে রাখল হাতের কাছে/ ভাবলাম দুটো কেন? দুটি-ই অত্যন্ত দামী, ভালো জিনিস/ চোখ বন্ধ করে বসে রইলো প্লেন ছাড়ার আগে পর্যন্ত/ আকাশে ঝুলে পরতেই ছোট যন্ত্র খুলে বসে গেল সিনেমা দেখতে/ ভালো লাগলো না/ কানে ঠুলি গুজে গানে ডুবে যাবার চেষ্টা করলো/ কোনটাতেই মন লাগছে না/ প্লেন-এ এটাই প্রবলেম/ সমাজের ওপরতলার যান, এখানে সহ যাত্রীর সাথে কথা বলার চল নেই/ সমস্যা, কে আগে শুরু করবে! 

DELTAR ম্যাগাজিন পড়ছিলাম/ এখানেও মেয়েদের বিয়ে হওয়ার প্রবলেম! এই ম্যাগাজিন তো ওপরতলার লোকেরা ছাড়া আর কেউ পরে না! বলছে ডেটিং এর সমস্যা মেয়ে ছেলে দুজনেরই/ আড় চোখে সুন্দর মেয়েটিকে দেখে নিলাম/ এর ডেটিং প্রবলেম আছে? লিখছে আজকের  দুনিয়াতে কম্মুনিকেসন অনেক জলদি হযেছে ঠিকই, ভালো হয় নি কিন্তু! প্রচুর AD / আমাদের ভারত MATRIMONYR মত / তবে আলাদা আলাদা, আমাদের  ঘটক যেন! বলছে আমাদের সাথে যোগাযোগ কর, তোমাদের দুজনকে একদম লাঞ্চে বসিয়ে দেব, আর  শিখিয়ে দেব কি করে মানুষটাকে কম্পুটারের পেছন থেকে বার করে আনবে!

সল্ট লেক আসছে/ আকাশ থেকে শুধু পাহাড় দেখা যাচ্ছে/ একপাশের পাহাড়ের মাথায় পাকা চুল/ এখনকার সেই স্টাইল/ মাঝখান থেকে সরু এক গাছা তুলে সাদা রং করে দিয়েছে যেন/ পাহাড় ঘেরা গ্রাম দেখলাম/ বৃষ্টি হযেছে  মনে হচ্ছে/ নামার পরে দেখলাম, একপাশে বরফ আঁকা পাহাড়, একটু উচু/
ওই দুরে পাহাড়, মাথায় বরফের ডাই
 অন্যপাশে একদম ন্যাড়া পাহাড়/ নিচু, ছোট পাহাড়ের সারির সমান্তরাল রানওযে/১২০০০ ফিট/ বেশ ভিড় এই AIRPORT -এ/ হরেক রকমের যাত্রী দেখছি/ কেজো লোক/ তাদের হাবভাব আলাদা/ নিপাট বেড়ানোর লোক, আমাদের মত/ আর  কিছু লোককে ঠিক বোঝা যাচ্ছে না/ কেজো নয়, আমাদের মত বেড়িয়ে নয়/ খুব ক্যাজুয়াল ড্রেস, ভারী স্মার্ট, খুব বড়লোক হাবভাব/  আমাদের হাতে অনেক সময় এখানে/ একটু ঘোরাঘুরি করতেই জানা গেল এটা UTAH -র ইম্পর্টান্ট সদর দরজা/ এখান থেকেই অনেক লোক স্কি,গলফ,নানা রকম রাইডের শুরু করে/ এইবার বোঝা গেল/ আমাদের ছোটখাটো AIRPORT এর মত ভিড়/ আর  লক্ষ্য করার মত, আমেরিকার অন্য অনেক AIRPORT এর থেকে নোংরা রেস্ট রুম/

ঠান্ডা/ আমাদের হাতে সময় ছিল/ রোদে পিঠ দিয়ে বসে থাকতে ভালই লাগছিল/



অপেক্ষা
লস এঞ্জেলেস-এ নামার সময়টা খুব ভালো ছিল/ সন্ধে হয় হয়/ সময়ের গোলমাল হযে গেছে/ সল্ট লেক-এ একবার ঘড়ির কাটা ঘোরানো হযেছে, একঘন্টা, লস এঞ্জেলেস-এ আরও এক ঘন্টা/ পশ্চিমে আসছিত আমরা/ওপর থেকে অসাধারণ একটা জামদানি শাড়ি দেখা গেল/ জমিটা কনে দেখা আলোর রং, টানা মোটা পাড়/  সোনা রঙের/--পাশা পাশি চলা রাস্তার সোডিয়াম  ল্যাম্প/ গাড়ির সার দেখা যাচ্ছে না/ তাদের হেড লাইট, টেল লাইটে হিরে চুনির ঝলক/ এই মহার্ঘ্য শাড়িটা আলতো করে যেন ঢেকে রেখেছে উত্তুঙ্গ পাহাড়ের লজ্জা/

বলে দিতে হয় না কত বড় সহর!

তার মধ্যে আমরা লেট/ হাতে মাত্র কুড়ি মিনিট সময় আছে/ তার মধ্যে ল্যান্ড করার পরেও প্লেনটা দাড়িয়ে আছে/ আতঙ্ক হচ্ছে/ এই ফ্লাইট মিস করলে কি হবে!সামনের লোককে বললাম আমার তাড়া আছে, OAKLAND  এর  ফ্লাইট মিস করব/ হেসে আমাকে বলল OAKLAND বল না/ INTERNATIONAL বল/ তাহলে শুনতে পারে / OAKLAND তার মানে গরিব প্রতিবেশী/ কালিফোর্নিয়া বড়লোক স্টেট/

ছোট্ট প্লেন, 2x2 / এমনকি হ্যান্ড বাগেজ-ও নিতে দেবে না/ আমাদের ট্রাভেল সিস্টেম যেমন একদম প্লেনের দরজায় ছেড়ে দিচ্ছিলাম, তেমনি হ্যান্ড বাগেজ ছেড়ে দিলাম/ একটু দেরী করেই ছাড়ল/ হয়ত আমাদের জন্যই দেরী করছিল/ আমার OAKLANDER সহ যাত্রী! সে তো এলো একদম শেষ বেলায়/ তাকে মামন শিফট করিয়ে আমার পাশে এনে বসালো/ অত্যন্ত সুঠাম চেহারার কালো ছেলে একটি/ ঘামছে/ আমি ফ্রন্ট ডেস্ক নামিয়ে সুডোকু করছি/ বিমানবালা বলে গেল ডেস্কটা আমার জন্য গুটিয়ে রাখা যায় কি?
আমি হেসে বললাম তোমার জন্য নয়, আমার জন্যই গুটিয়ে রাখব/ ছেলেটি হেসে ফেলল/
জানতে চাইলাম তুমি কি OAKLAND এর বাসিন্দা?
হাঁ/
ওখানে কি এই রাতে খুব ঠান্ডা হবে?
আমার দিকে তাকিয়ে বলল, তোমারটা ঠিক আছে, আমাকে একটা জ্যাকেট চাপাতে হবে/ আমর হাফ স্লিভ কিনা/
ব্যাস, এর পর ওর আর উত্সাহ রইলো না তার / প্যাকেট বার করে বার্গার খেল/ বেরোলো সেই এক ও অনন্য সঙ্গী, IPOD / দেখলাম, যেন অভ্যাস মত খেলাটা খুলল/ একগাদা কি সব ডান দিক থেকে আসছে, ও গোলা গুলি ছুড়ছে/ একটু বাদে কানে ঠুলি গুজে নিল, আওয়াজ হয় বোধহয়/ ওর শরীরের ভাষা বলছে, একটুও উত্তেজনা নেই/ ও স্পীড বাড়ালো/ নাহ! বেশ জোরের সাথে বন্ধ করলো/ ব্যাগ  হাতড়ে ফোন বার করলো/ এবার গানের চেষ্টা বোধহয়!

 OAKLAND AIRPORT এদেশের তুলনায় গরিব/ কাজ হচ্ছে/ আমাদের কলকাতায় নামলে যেমন লাগে/ নামার আগেও খুবই অনুজ্জ্বল লাগে সহরটিকে / এখানেও তাই লাগলো/ মন খারাপ করা কবিতায় যেমন থাকে একটা বাদামী রঙের একলা চাঁদ/ আকাশে  ম্লান আলো, নীচেও তেমন উজ্জ্বল আলো পেলাম না/ ল্যান্ড করার আগে একটা ঝলমলে  সহর পেরিয়ে এলাম/ কোন সহর? সান ফ্রান্সিসকো? জানিনা প্লেন কি রুটে চলে/ সান ফ্রান্সিসকো আর অকল্যান্ড ভাই বোন সহর/ যারা অকল্যান্ড -এ থাকে তারা কিন্তু বলে সান ফার্সিস্কো তে থাকি! আমাদের ঢাকুরিয়া আর যোধপুর পার্কের মত ব্যাপার আরকি!

মজার বিজ্ঞাপন দেখলাম/ গাঁজার/ গাঁজা কে আইনসম্মত করার জন্য এখানে সন্মেলন হবে! ভারী ভালো ব্যাপার/ বড়লোকের ছেলেদের আর যেন পুলিস ঘাটাতে না পারে!ওরা একটা কিছু নেশা করবে তো নাকি! হালকা করে বললাম, জানা গেল মেডিকেল ইউস! যাই হোক অভিনভ বৈকি/ আমরা থাকব ALMEDA -য়/ ওকল্যান্ড এর ঝকমকে জায়গা/ তখনো কি জানতাম রাতটা কেমন যাবে!

1260 SOUTH LOOP, EXTENDED STAY AMERICA
প্রথম সকালেই ওকল্যান্ড কে ভালোবেসে ফেললাম/ আকাশে মুখ তুলে দেখলাম গুর গুর আওয়াজটার উত্স একটা হেলিকপ্টার/ ল্যাজে মস্ত একটা ব্যানার বেঁধে উড়ে চলেছে/ বিজ্ঞাপন/ এটা অস্টিন-এও দেখেছি/ ঝলমল করছে রোদ/ ছোট ছোট মধ্যবিত্ত বাড়ি ঘর/ বড়লোকি চাল নেই/ কিন্তু ফুলে,গাছে, রঙ্গে কেআরিতে ভারী মনোহর/ লোক জন কম, তবে বেশ আন্তরিক/ সবাই সবার সাথে কথা বলে/ পোশাকি নয়/ বলে দিতে হয় না, এই সহরটা আপন করে নিতে জানে/


এই ভদ্রলোক আমার সাথে ছিলেন
গোলাপ--এক ঝাঁক

 সকল বেলা বেরিয়ে পড়েছিলাম/ দেখলাম কেমন দেখতে আমাদের আস্তানাটা/ বেশতো/ একটু পেছন দিকে যেতেই বুঝলাম আমরা একদম AIRPORT এর সীমানার গায়েই/ আমাদের ঘুরে আসতে হযেছে/ সুন্দর সাজানো জায়গা/ এখানে সব বাড়ির সাথে পার্কিং এর জন্য অনেকটা জায়গা রাখতেই হয়/ গাছ পালা দিয়ে সাজানোর  অনেক সুযোগ/ আর সে সুযোগের সঠিক ব্যবহার বেশির ভাগ জায়গাতেই দেখতে পাই/ সুন্দর বাগান থাকে/ অনেক ফুল/ দশ বারো রকমের ফুল। গোলাপের রকমফের ধরলে আরও বেশি। সকালে বেশ মধুর একটা গন্ধ আমার সাথে সাথে চলল/ গাড়ি চলে নি এখনো, গাছ ফুলের রাতের মজলিশি সুবাস তাই এখনো ভেসে আছে। বুঝতে চেষ্টা করলাম সব কটা ঝাড়ের কাছে গিয়ে কার এই সুবাস/ উহু, কেউ জানান দিলে না। সবাই যেন নীরবে জানিয়ে দিল এটা আমাদের গন্ধ। আমাদের আলাদা করা যায় না।



অনামী রংবাজ




পাখিতো আসবেই, ফুল থাকলে ফল থাকবে, থাকবে প্রজাপতি, কাঠবিড়ালি/ লোকজনতো কম/ ভারী ভালো লাগে একা একা হাঁটতে/ বেরিয়ে পড়লাম/ আশপাশটা একটু দেখে নেওয়া যাক/ ওরা বাচ্চাকে তৈরী করবে, এই ফাঁকে একটু একা একা পায়ে পায়ে আলাপ করে নি OAKLAND এর সাথে/


একা পথ
একাই হাঁটছিলাম/ পথের পাশের বাগানের দিকে চোখ/ দুরে চোখ/ আশেপাশের বাড়ি সব ছোট খাটো/ AIRPORT একদম কাছেতো/ আমাকে চমকে দিয়ে গায়ে  পড়ল জলের ছিটে/ তাকিয়ে দেখি একদম মাটির সাথে মিশে থাকা স্প্রিন্কলার/ সকালের জল দেওয়ার কাজ হচ্ছে/ গাছগুলোর একা লাগে না? কেউ জল দিতেও আসে না? মাটির দেখা নেই/ গাছের গোড়ায় চেরা কাঠ/ সকাল বিকেল কেউ আসেনা ওদের সাথে কথা বলতে! ওরা এত সাজগোজ করে, সুন্দর ফুল ফোটায়, গন্ধে মাতিয়ে দেয় আকাশ বাতাস/ কেউ তো এসে বলুক বাহ! এ যেন সেই দুখী মেয়েটির মতো, সেজে বসে থাকে রোজই, ভাবে কেউ এসে বলবে বাহ! ভারী সুন্দর দেখাচ্ছে তো তোমায়!কেউ আসে না, সে দুখী তাই/ 

বাস স্টপের মত ছাউনি করা আছে/ দেখেই বোঝা যায় যে খুব একটা ব্যবহার হয় না/ আহ!বাস স্টপটাও একা? না না, একা নয়/ ওর গায়ে মজার একটা নোটিস লাগানো আছে/ হাতে লেখা আর আঁকা/ আমার IGUENA  হারিয়ে গেছে/ খুঁজে দিলে পুরস্কার/ ..... ফোন নাম্বার দেওয়া/ এবার হাতে আঁকা ছবিটা দেখলাম/ নাহ, একা আমি অজ্ঞান নই/ আমার মতই আরও কেউ কেউ প্রশ্ন করবে IGUENA কি? একটা ছবি এঁকে দিয়েছে/ একটা বেশ বড়সর গিরগিটি/ এখানে অনেকেই পোষে/ এত গাছ, এত ফুল, এত ঝোপ ঝাড় কেন ওর ভালো লাগবে বদ্ধ AIRCONDITIONED জায়গা/ বেশ করেছিস পালিয়ে গেছিস/ একটা বন্ধু জুটেছে কি? সুখে ঘর কন্না কর এইবার, আর যেন ধরা পরিস না/

পেছন থেকে হাই! আশ্চর্য্য! এখানে কেউ তো গায়ে পড়ে কথা বলে না!আমি আবার নিজের মনে বিড় বিড়  করছিলাম না তো ?
হাই!
ফিরিয়ে দিলাম সৌজন্য/
একা একা হাঁটতে ভালো লাগে না জানো? আলাপ হযে গেল/
নতুন এসেছ বুঝি?
বললাম কাল রাতে/ বেড়াতে এসেছি/
বেশ বেশ/আমাদের OAKLAND -এর অনেক পুরনো ইতিহাস আছে/ তোমরা যে জায়গায় আছো এখন, এটা নতুন হযেছে/ দেখছ না, সবই প্রায় নতুন বাড়ি/ মূলত অফিস এলাকা/ দেখনা, এখানে ABBOT  কোম্পানির দু তিনটে অফিস আছে, আর ওই একদম সামনে স্পেস সম্পর্কিত কাজ কর্ম হয়, ঠিক জানা নেই/ এখানে মেডিকেল আর ওষুধ সম্পর্কিত অনেক কোম্পানি পাবে/ এদিকটা তো প্রথমে ছিল না/ এ দিকটা পুরোপুরি কৃষিনির্ভর এলাকা ছিল/ যা কিছু তখন ছিল ওই DOWNTOWN এর ওদিকটায়/ পুরনো ইতিহাস অনেক/ স্পানিসদের  হাতে ছিল সব/ পোর্ট এলাকা তো , দেখেছ তো আসার সময় হারবার নামের রাস্তাটা? এই দেখো, আমি একাই বক বক করে চলেছি/
বললাম বল, আমার শুনতে ভালো লাগছে/
এক সময় এখানে শিপবিল্ডিং, গাড়ি, পোর্ট এই নিয়েই বাড়ছিল সহরটা/  জানোতো     এখানে CHEVROLET , CHRYSLER  এই সব নামী গাড়ির ফ্যাক্টরি ছিল/
ছিল বলছ কেন? এখন নেই?
এসব হলো WORLDWAR সময়ের কথা/ এখন, ওই যে বললাম তোমায়, মেডিসিন, ITএসবেই চলছে/ সহর বেড়েছে, বাইরে থেকে লোক এসেছে, কালো সাদার গন্ডগোল হযেছে/ পুলিশি অত্যাচার হযেছে/ ক্রাইম রেট খুব বেশি ছিল/ নিশ্চই জানো OCCUPY OAKLAND এর কথা?
মাথা নাড়লাম/ বললাম ও কথা আর শুনতে চাই না/ রাস্তার ধারে বাস স্টপ দেখছি একটাও বাস তো গেল না!
ওহ, এখান দিয়ে বাস চলে না/ অথচ এখানে পোর্টের কাছে রেল টার্মিন্যাল/ ইলেকট্রিক বাস চলত আগে/ এখন সান ফ্রান্সিসকোতে দেখতে পাবে/ তোমরা যাবে না?
বললাম যাব/
আশপাশ ঘুরে দেখো ভালো লাগবে/ সুন্দর সুন্দর ঘর বাড়ি দেখবে ছোট ছোট/ ওগুলো খুব পুরনো বাড়ি কিন্তু/ এখানে যখন কল কারখানার রমরমা, তখন অনেক লোক এসে এখানে বাসা বাঁধে/ ওদের করা বাড়ি ঘর/ কাঠের তৈরী/ জানতো, সান ফ্রান্সিসকোর সব কাঠ এখান থেকে গেছে!তাও এখানকার জলা জঙ্গল অনেক ভালো আছে/ MERRITT  LAKE  দেখো, ওয়াইল্ড লাইফ রেফেউজ/ রেড ট্রী ফরেস্ট দেখতে ভুলবে না কিন্তু/ আমরা এখনো এখানে প্রকৃতির কদর করি/ এখানে RENEWABLE RESOURCE থেকে যত বিদ্যুত তৈরী হয়, তার জুরি মেলা ভার সারা দুনিয়ায়/
তুমি কোথায় থাক?
এই কাছেই/
বরাবর এখানেই থাক বুঝি/
হাঁ, আমার পূর্বপুরুষরা এখানকার আদিম লোক -- OHLONE / আগে এখানে শুধু আমরাই ছিলাম, ছিল বন, প্রকৃতি আর আমরা/ আমাদের বাঁচার জন্য যা প্রয়োজন তার অনেক বেশি ছিল এখানকার বনে জঙ্গলে আর মাটিতে/ ভালো ছিলাম আমরা/ ইশ!দেখো অনেক বেলা হলো / আবার দেখা হবে বন্ধু/ হঠাত হাঁটার গতি বাড়িয়ে দিল সে/ যেমন হঠাত এসেছিল, তেমনি হুট করে চলে গেল/ বেশ লাগছিল শুনতে/ এই দেখো,নামটাও জানা হলো না! আর তো কোনদিন দেখা হবে না/ কাল যদি দেখা হয়!
এটা ঠিক আছে 

এ পোশাক নয় 
চলো/ রেডি? চিন্তা আছে মাথায়/ সাব্বুর শরীরটা ঠিক নেই/ না,না, এই পোশাকে হবে না/ মায়ের আপত্তি। আবার চেঞ্জ করা হলো।সাব্বু নতুন  সাজে যা সব খেল দেখালো, আমরা
ভাবলাম ঠিক আছে/ খুব মুডে আছে।দিনটা ভালো যাবে। সঙ্গে জল রাখতে
 ভুল না হয়।
 বেরিয়ে এসে মা, মেয়ে,তার মেয়ের একটা ছবি নিয়ে নেওয়া হলো/ তিন প্রজন্ম চলেছে বেড়াতে/ আমি সাথে আছি মাত্র।

তিন প্রজন্ম 
সান ফ্রান্সিসকো অনেকটা পথ/ যাওয়া আসা নিয়ে ঘন্টা ছয় লাগবেই/ কেমন থাকে কে জানে/ এমন নয় যে মাঝ পথ থেকে ফেরত আসব/ লম্বা রাস্তা, হুট করে গাড়ি ঘুরিয়ে চলে এলাম  এমন নয়/ বেরিয়ে পড়লাম আমরা/


লম্বা রাস্তা/ হাতে আমার কাগজ/ গুগুলদার দেখানো রাস্তা/ গোটা ত্রিশেক ডাইনে বাঁয়ে/ মামন গাড়ি চালাচ্ছে, আমি নেভিগেটার/ ভালো করে রাস্তা দেখতেই পারলাম না/ রোড সাইনের ওপর চোখ/ আমাদের I880 ধরতে হবে/ ঠিক ঠাক চলছিল/ 98TH ধরার পর আমাদের 880N ধরার কথা/ এখানে গোলমাল হলো/ আমরা সাউথ ধরে ফেললাম/ এই এক জ্বালা/ একবার ভুল করে ফেললে গাড়ি ঘোড়াতে মাথা খারাপ/

I80W  ধরে কিছু বোঝার আগেই দেখলাম মস্ত এক ব্রিজে উঠে পরেছি/ বামপাশে মস্ত পোর্ট এলাকা/ তাহলে কি আমরা এসে পড়লাম? না, না, বুঝেছি/ এটাই BAY BRIDGE /

BAY BRIDGE 
OAKLAND আর SAN FRANSISCO ভাই বোন/ মাঝে SAN  FRANSISCO BAY / এই রাস্তা তার ওপর দিয়েই চলেছে/ এই সেই BAY BRIDGE / সাল মনে নেই, এই ব্রিজটারি দারুন ক্ষতি হযেছিল কোনো একটা ভূমিকম্পে/ ঠিক কত লম্বা এটা? দুটো আলাদা আলাদা স্প্যান আছে/ মাঝে একটা ছোট দ্বীপে পা রেখেছে ব্রিজটা/ সেখানে আবার একটা টানেল/ এই সবই করা হযেছিল  সান ফ্রান্সিসকো কে বাঁচাতে/ প্রথমে চলত ট্রেন আর ট্রাক/ পুরোপুরি ব্যবসার ব্রিজ/ দিনে নাকি তিন লাখ গাড়ি যাতায়াত করে/ টোল দিতে হয়/ ব্রিজে উঠতে উঠতে দেখা যায় কাজ চলছে/ ভূমিকম্পের পরে পুবদিকের একটা অংশ চালু করে দেওয়া  হযেছে/ আরও একটা নতুন ব্রিজ করা হচ্ছে/ সেটা নাকি পুরো সাস্পেন্সন ব্রিজ হবে/ তাই ডানদিকে অনেক বড় বড় কন্স্ত্রাক্সন মেশিনারি, বাঁদিকে পোর্ট/

ডানদিকে সান ফ্রান্সিসকো দেখা দিতে শুরু করেছে/ আমরা উত্তেজিত/ এসে পড়েছি তাহলে/ কোন ফাঁকে টানেলটা পেরোলাম খেয়ালই করলাম না!

ব্রিজ থেকে নেমে পড়তেই একদম অন্যরকম শহর/ দেখেই বোঝা যায় কেজো শহর/ মামন বলল পাপা বাড়িগুলো দেখো, গায়ে গায়ে লাগানো বাড়ি/ রো হাউস/ আলাদা আলাদা রং দেখে বুঝবে আলাদা মালিকানা/
দেখো দেখো মা, মজার না!
তুমি বাবা দেখে চালাও/ আমি দেখছি/
রো হাউস, সান ফ্রান্সিসকো 
যেটা চোখে পড়ল,কি সুন্দর আস্তে আস্তে শেডটা পাল্টেছে/ ভালো করে না দেখলে বোঝা যাবে না/

আমাদের লক্ষ্য GOLDEN GATE BRIDGE / অনেক সব রাস্তা পেরিয়ে যেতে হবে/ নতুন নতুন নাম/ তেমন কোনো মজার নাম নেই, তাই চোখ টানেনি/  মনেও  নেই।পথে LOMBARD পড়বে, কোথায় সে? LOMBARD স্ট্রীট, যারাই SAN ফ্রান্সিসকো এসেছে, মনে রাখবে/ প্রথমত: অবিশাস্য ঢাল/ মামন তো সামনের ঢাল দেখে বলল:
পাপা, পারব না/ সেই, সেই, অন্য একটা ব্রেক থাকে না, সেটা কোথায় দেখে নিইনি তো/ কোথায় সেটা? সে তো একেবারে টপ অফ দ্য ভয়েস -এ কথা বলছে/ টুক করে দেখে নিলাম হ্যান্ড ব্রেক যথাস্থানেই আছে/ বললাম:
আসতে চালাও, উত্তেজনার ঠিকই, মাথাটা ঠান্ডা রাখো/ কাউকে ঠুকে দিলে চলবে না/ তোমার খুব ভাগ্য ভালো যে অটোমেটিক গাড়ি, এই স্লোপে গিয়ার পাল্টাতে হলে বুঝতে/ সামনে তাকাও, সামনের গাড়ির থেকে বেশ একটু দুরে থাকো/
ঢাল দেখেছ?LOMBARD

গড়িয়ে গেলে একদম সমুদ্রে 
পর পর সিগন্যাল/ খুবই আস্তে চলছে গাড়ি/ কিন্তু সামনের ঢালের দিকে তাকিয়ে হৃত্কম্প হবে না, এমন মানুষ কম হবে/ ২৭ ডিগ্রী ঢাল/  


ছবি দেখে কি ঢালটা বোঝা যায় ? না বোধহয় / এখানে তো তবু ভালো। এই LOMBARD এর আরও একপ্রান্তে  ঢাল কমানোর জন্য রাস্তা একেবেঁকে গেছে/ এখানকার লোকেরা রীতিমতো আন্দোলন করেছে, যখন দুর্ঘটনায় লোক মারা যাওয়ার কারণে ওই রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ার কথা হযেছিল/ এই রাস্তায় গাড়ি চালানোর মজার জন্য কত টুরিস্ট আসে এখানে! তখন রাস্তা একাবেঁকা করে ঢাল কমানো হলো। তাবলে ওই মারাত্মক ঢালে যারা মারা গেছে তাদের ভোলা হয়নি, তাদের জন্য ফুল রাখা হয়!
ততক্ষণে সমুদ্র দেখা যাচ্ছে।আমাদের আর তর সইছিল না। ঐ তো সান ফ্রান্সিসকো বে/ GOLDEN GATE BRIDGE তো তারই ওপরে! চলো চলো /

পথে ডানহাতে একটা সৌধ মত পড়ল/ সাটার টিপলাম, খুব যে ভালো ছবি এলো তা নয়। মামন দেখেছে/
পাপা থামবো ?
নারে বাবা, ফেরার পথে দেখা যাবে। আগে দেখে নি, ও কেমন থাকে। আগে মেন জিনিসগুলো দেখে নি/ তারপর ও ভালো  থাকলে ফিরে আসবখন।

এই রাস্তা ১০১ এর অংশ, ১০১এর ওপরই GGB / ওটাই আমাদের গন্তব্য / পার্কিং লটে নাগরদোলা চলছে। ছোট্ট জায়গা। গোটা কুড়ি গাড়ি থাকতে পারে। সব ভরা /গোল গোল ঘুরতে থাকো/ আমরা ঘুরে ঘুরে জায়গা পেয়ে গেলাম। এই জন্যই বলা আছে দেখলাম গাইড সঙ্গে নিয়ে বেরোতে হলে ঘন্টাখানেক আগে আসুন। পার্কিং করে ঠিক সময়ে আসুন। আমরা কিন্তু পার্কিং পাই নি বলে টিকিট ফেরত দিতে পারব না! বোঝা গেল, বেশ ভিড় হয় কোনো কোনো সময়।

এই সেই GOLDEN  GATE  BRIDGE 
সবাই ছবি তুলে যাচ্ছে। কেউ খুশি হতে পারছে না। ব্রিজটার যে সৌন্দর্য্য সেটা একদম মাঝামাঝি না গেলে পাওয়া যাবে না। একটা স্পীড বোটে চড়ে জলের ওপর থেকে তুললে যে ছবিটা পাওয়া যাবে সেটা পাড় থেকে পাওয়া যাবে না/ সে চেষ্টাই করে যাচ্ছে সবাই/ সাধে কি আর এটা পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি ছবি তোলা  ব্রিজ!


এখানে সবাই সবাই কে অফার করে  দিন আপনাদের একটা ছবি তুলে দি! এক চিনে দম্পতি আমাদের ছবি তুলে দিলো / আমরাও ওদের জোড়া ছবি তুলে দিলাম। শোধ বোধ।

মজা আছে এখানে/ যাবার সময় টোল লাগে না, আসার সময় লাগবে/ সময় বাঁচলো, ওপারে গেলে এপারে আসতেই হবে/

এর পর যখন ওরা সবাই ছবি তুলছে, আমি মাঝের ছোট সুভেনীর দোকানটায় ঢুকে পড়লাম/ অনেক কিছু কেনা বেচার জন্য আছে ঠিক-ই তার সাথে অনেক তথ্য দেওয়া আছে/ যেমন, এখন পর্যন্ত  ১৯২ কোটি ... লক্ষ্য।..হাজার।.... গাড়ি এই ব্রিজের  ওপর দিয়ে গেছে! টোল  নেওয়া হচ্ছে প্রথম দিন থেকে, হিসেব রাখতে অসুবিধে তো নেই। আরও যেমন, এটাই পৃথিবীর  দ্বিতীয় পছন্দের আত্মহত্যার জায়গা। মনে সঙ্গে সঙ্গে প্রশ্ন জাগে প্রথমটা কে? সেটা জাপানে। জাপান আত্মহত্যায় প্রথম।এখানে যারা ঝাঁপ দিয়েও বেঁচে গেছে, তার মধ্যে একজন দ্বিতীয় বার এসে সফল হয়। একটি মেয়ে। কি দুঃখ ছিল গো  তোমার?

এখানেও ঈর্ষার ইতিহাস আছে/

STRAUSS বলে যার ছবি সবাই কিনে নিয়ে যায়, তিনি আসল  ইঞ্জিনিয়ার নন/ তাঁর কৃতিত্ব তিনি $১০০ মিলিয়ন খরচকে চ্যালেঞ্জ  করে বলেছিলেন, সাস্পেন্সন ব্রিজ করলে $১৭ মিলিয়ন -এ হবে/ বুকের পাটা লাগে এমন কথা বলতে/ শেষ পর্যন্ত কিন্তু ওনার ডিজাইনে কাজ হয় নি/ কারণ ওনার  এই ধরনের অভিজ্ঞতা ছিল না। MOISSIEFF -এর ডিজাইনে কাজ হযেছে/ বুকে ঈর্ষা তো ছিলই, সেই রাগ আর ঝাল উনি নিলেন ELLIS বলে একজনের ওপর/ যিনি শুধু এখানে কাজ করবেন বলে ভীষণ  তাড়াতাড়ি ইঞ্জিনিয়ারিং পাস করলেন (গণিতজ্ঞ ছিলেন)/ ELLIS কে উনি বরখাস্ত করেছিলেন MOISSIEFF -এর সাথে টেলিগ্রামে যোগাযোগ রাখার দায়ে/ উনি কিন্তু বরখাস্ত হবার পরও মাইনে ছাড়া কাজ করে যান পুরো ডিজাইন শেষ করার জন্য/ এত কথা হয়ত বলতাম না, যদি জানতে না পারতাম, পৃথিবী বিখ্যাত এই ব্রিজের ৭৫ তম জন্মদিনের আগেই ELLIS কে তার মর্যাদা দেওয়া হযেছে, সন্মান জানিয়ে, মরনোত্তর! আরও অনেক অনুষ্ঠান, অনেক জলসা,অনেক মজা হবে, তবে এই কাজটি বিশেষ মর্যাদা পাবে আমার কাছে, হয়ত আরও অনেকের কাছে/

একটা ছোট মেমেন্টো কেনা হলো/ GGB কাগজে শোয়ানো/ অনেক দাম পড়ল, আলো খুব রেগে গেল দাম শুনে যখন দেখল যে হাতে একটা খাম শুধু/
তা আবার একটা না, দুটো কিনলে?
একটা আমেরিকায় থাকবে একটা কলকাতায়/
দেখি দেখি, কি জিনিস যার এত দাম?
এখন তো খোলা যাবে না/ খুললেই নষ্ট হয়ে  যেতে পারে! সেতো রেগেই গেল/

পরে বাড়ি এসে যখন করলাম, তখন খুশি হযে গেছে/ না না, এখন আর কোনো রাগ নেই/ ছোট্ট একটা চার ইঞ্চি বাই চার ইঞ্চি জায়গায় ভরি সুক্ষ লেজার কাট করে ১৯টা টুকরোতে পুরো ব্রীজটাকে বানিয়ে দিয়েছে/ জুড়তে একটু দক্ষতা লাগবে ঠিকই, কিন্তু বানানোর পর বেশ একটা তৃপ্তি হবে, এটা নিশ্চয়  করে বলা যায়। খালি যেটা নেই সেটা হলো কমলা রং/ এই ব্রিজের রং কমলা/ এর ইতিহাস মজার/ সব স্টিল স্ট্রাকচারে প্রথমে প্রাইমার লাগানো হয়/ এখানে প্রাইমারের রং ছিল কমলা/ তার ওপর সব ব্রিজে যেমন থাকে চকচকে সিলভার রং লাগানো হয়, তেমনটি-ই হবার কথা ছিল/ জনমত এমন হযে গেল--- সবাই বলল না না অন্য রং চলবে না, এই কমলা রংটাই থাকতে হবে/ অতঃ কিম/ তবে তাই হোক/
এই ব্রিজটা জন্মের প্রথম দিন থেকেই নানা গোলমালের মধ্যে দিয়ে গেছে/ তার মধ্যে সব চেয়ে মজার হলো ফেরি কোম্পানির কেস/ ওদের বক্তব্য খুব পরিষ্কার  ছিল/ ওরা, যখন ব্রিজ নেই, তখন মাল পত্র, গাড়ি সব ফেরি করে ওপারে নিয়ে যেত/ ওদের দাবি ছিল খুব সোজা--- ব্রিজ হলে আর কেউ ফেরি চড়বে না, তাই ব্রিজ করা যাবে না/ এই রকম হাজার কেস ডিঙ্গিয়ে তবে হযেছে এই ব্রিজ/ জানিনা হেঁটে গেলে ওরা এই সব গল্পই বলত কিনা/ আমার কিন্তু এইসব নিজে নিজে জানতে পেরে খুব ফুর্তি হলো মনে।

আমরা একটু ধারে চলে গেলাম। আরও একবার আরাম করে নেমে ঘুরে দেখা হলো চারপাশ। মেয়েকে বললাম বাবা ওপাশ টার   একটা ছবি তোলো / ব্রিজের ওপর থেকে ওদিকটা কেমন দেখতে সেটার একটা আন্দাজ পাওয়া যাবে। লক্ষণের  বৌ এর মত ওদিকটা বড় অবহেলিত।সবার ক্যামেরার মুখ ব্রিজের দিকে!



আমরাতো আর কন্ডাকটেড ট্যুর নিই নি। দু রকম আছে। যাই-ই কর, ঘন্টা দেড়েকের ব্যাপার। সাব্বুকে নিয়ে সম্ভব নয়। মনে হয় না খুব বেশি কিছু মিস করলাম। যেন একটু বেশি পরিচয় হয়ে গেল একটু আগেও অচেনা এই ব্রিজটার সাথে/ টাটা, আবার দেখা হবে কিনা জানিনা।

সাব্বু আমাদের অনেক আশা দিয়ে বেশ খোশ মেজাজে আছে। তাহলে চলো আর যা যা দেখার আছে,সেগুলোর ছুঁয়ে যাই।

সান ফ্রান্সিসকো সারা পৃথিবীর টুরিস্টদের প্রিয় সহরের অন্যতম/ আমেরিকার তৃতীয় প্রিয়তম/ অনেক ওঠাপড়া হযেছে এই সহরের ভাগ্যে/ ভারী ছড়ানো ছেটানো জায়গা/ একদম আদি লোক যদি খুঁজতে যাওয়া হয়, এর দখল ছিল সেই OHLONE আদিবাসীদের/ যারা OAKLAND এর আদিম বাসিন্দা ছিল, তাদেরই একটা ধারা থাকত এই দ্বীপে/ তারপর সারা আমেরিকার ইতিহাস যেমন, এখানেও স্পানিসদের আগমন, আদিবাসীরা পিছু হটে/ বড় হতে থাকে সহর ব্যবসা বানিজ্যের বাড় বাড়ন্তর সাথে সাথে / এখন সহরের সীমানায় ছোটখাটো গোটা পঞ্চাশেক পাহাড় আর ছ সাত খানা দ্বীপ! যোগাযোগের ব্যবস্থা খুব ভালো, রাস্তা ঘাট, কেবল কার (আরে আমাদের কলকাতার লোকেদের কাছে যা ট্রাম), ট্রলি বাস/ ইলেকট্রিক বাসও বলা যেতে পারে/ পাশের বাড়িতে যে সব ছবি দেখা যাচ্ছে না, সেটাও কিন্তু এই সহরের চরিত্রের মধ্যে পড়ে / অনেক বাড়ির গায়েই এই রকম সব ছবি আঁকা আছে/ তলায় আবার আর্টিস্টের নাম দেওয়া থাকে। যদি কেউ তার বাড়িতে ছবি আঁকাযে নিতে চায়!



ফেরি সার্ভিস সান ফ্রান্সিসকো বে জুড়ে সব দ্বীপে যাতায়াতের জন্য / সহরটা শুধু টুরিস্টদের হাত ধরে অনেক রোজগার করে/ তাই টুরিস্টদের জন্য এমনকি ফ্রী সার্ভিস আছে/ সর্বত্র নয়, বিশেষ এক পয়েন্ট থেকে অন্য পয়েন্টে/ টুরিস্ট স্পটে তো রিক্সো আছে, ইলেকট্রিক কার আছে, সাইকেল আছে/ এক কথায় সব রকম বন্দোবস্ত আছে/ টুরিস্ট এবং সহরের বাসিন্দাদের জন্য, সহর যখন বাড়তে শুরু করে তখন রাস্তা ঘাটের জন্য অনেক পয়সা খরচ করা হযেছে/ ব্যবসার সহর, টাকার অভাব হয়নি কখনো/ BAY BRIDGE আর GOLDEN GATE BRIDGE এর মত মস্ত প্রজেক্ট একই বছরে শেষ হয়/ আমার তো মনে হয় না সারা পৃথিবীতে এই রকম নজির আছে/ এখানে দলে দলে লোক এসেছে বাইরে থেকে/ সাদা কালো, স্পানিস, মেক্সিকান / এমনকি যখন রেল লাইন পাতা হযেছিল, তখন প্রচুর চিনে লোক আসে/ সবাই মিলে মিশে একাকার হযে গেছে এখানে/ এই চিনেরাই এখানকার প্রসিদ্ধ চায়না টাউন এর বাসিন্দা/ বাড় বাড়ন্তর দিনে যেমন লোক এসেছে, সময় একটু খারাপ হলে লোকে ছেড়ে চলে গেছে/ আশ্চর্য্য জায়গা, কারো মনে পিছুটান জাগাতে পারেনি!আবার তাই বা বলি কি করে? এই সহরে এত কিছু ভালোর সাথে একটা আশ্চর্য্য তথ্য পীড়া দেয় সারা আমেরিকার সব চেয়ে বেশি HOMELESS (এরা ভিকিরি বলে না)এখানে/ হয়ত টুরিস্টেদের জন্য এখানে রোজগার করে দিন গুজরান করা সোজা, একটা বাসা বাড়ি করে সংসার করা অত সোজা নয়/ এই সহরে রোজগারের সবচেয়ে বেশি তারতম্য/ যারা টুরিস্টদের মনোরঞ্জন করে দিন গুজরান করে , তাদের সাথে IT রোজগেরেদের তুলনা করলেই বোঝা যাবে জমিন আসমানের চেয়েও বেশি ফারাক/ ১৯৮০ সালে, ডট কমের দুর্দিনে, দলে দলে লোক ছেড়ে চলে যায় এই সহর; আবার ১৯৯০ সালে ভরে যায় সুদিন এলে/ এখনো নতুন যত ব্যবসা -- যারা কিনা START UP বলে পরিচিত, তারাই এখানে সিংহভাগ/ শুধু কি ব্যবসার ওঠা নামা? এই সহর দেখেছে প্লেগ, আর বেশ খারাপ রকমের ভূমিকম্প/ আমার তো ভাবতেই খারাপ লাগে, জল, পাহাড়, ওঠানামা, ঠান্ডা আবহাওয়ায় প্লেগ বা ভূমিকম্পে মানুষ দিশেহারা/ সহরটা কিন্তু মরে নি, আবার নতুন করে সেজে উঠেছে/ মজলিশে যেমন একজনের পর আর একজন আসে, একটু আগে যে গান গেয়ে গেছে, তার কথা মনে থাকে কি? এখানেও সেই LIVE THE MOMENT অনুভবে শুধু মস্তি করে যাও/ একটু পরে কি হবে, কাল কি হবে, পরে ভাবা যাবে, এখন একটু ফুর্তি করে নি?

 ঠান্ডা বেশ/ এখানে কিন্তু সারা বছর ভরা রোদ্দুর/ মেঘলা দিনের সংখ্যা খুবই কম/ সবচেয়ে গরম মানে ২৪ ডিগ্রী/ ভাবা যায়? আসলে প্রশান্ত মহাসাগরের ঠান্ডা জল, আবহাওয়া আর হাওয়া সহরটাকে ঠান্ডা করে রেখেছে/ এত শীত শীত আবহাওয়ায় গেঞ্জি, আর হাপু পড়া আমুদে লোকের অভাব নেই/ দেখার জায়গার শেষ নেই/ তার মধ্যে কেবল কার, ট্রলি বাস তো চলতে চলতেই চোখে পড়বে/

গাড়ি ঢুকে পড়েছে সেই মোক্ষম রাস্তায়/ প্রথমেই ALCATRAZ / কুখ্যাত জায়গা/ মিলিটারীদের কুখ্যাত জেলখানা/ যেখান থেকে নাকি কেউ পালাতে পারে না/ আমাদের পোর্ট ব্লেআর এর মত কোনো মন খারাপ করা ইতিহাস নেই/ এখানে অত্যাচারের ইতিহাস, ক্ষমতার দম্ভ/ লোকে তাই দেখতে যায়/ এ আর নতুন কথা কি-- কেউ পালাতে পারে না--- সমুদ্রের মাঝে দ্বীপ, প্রশান্ত মহাসাগরের খ্যাতি ভয়ঙ্কর ঠান্ডা জলের/ সামনে ঠান্ডা জল, পেছনে গুলি, সামর্থ্য দুটি হাত/ কেউ পালাতে পারবে কি করে?আমরা যাব না/ ছবি তুলে নিলাম/




 সামনে সেই রিক্শ, আর নানা টুরিস্ট মনোরঞ্জনের ব্যবস্থার শুরু/ চলো, এগিয়ে চলো/ সাব্বুর মেজাজ খারাপ হতে শুরু করেছে/ সাইকেল রিক্সা সেই সনাতন দেখতে/ এখানে চকচকে রং/ বেশ আরামদায়ক বসার জায়গা/ ক্রিং ক্রিং ঘন্টিও আছে, আছে স্পন্সর/ আলাদা এইটুকুই/ মানুষ-ই চালাচ্ছে, সাজ পোশাক একটু স্মার্ট/ আমাদের দেখা ঘাম চকচকে মাসল, বা একদম রুগ্ন চেহারা দেখলাম না/ এরাই বোধহয় HOMELESS দের সিংহভাগ/ জানিনা/ প্রতি সহরে, প্রতিটি বেড়াবার জায়গায় হাজার হাজার আমুদে লোকের সেবায় কয়েকশ গৃহহীন থাকে তাদের আনন্দ দেবার জন্য/ তা সে গরিব দেশ-ই হোক আর বড়লোক/ এরা আমোদ করে না, এদের ছুটি নেই, অসুখ বিসুখ করতে নেই, তাহলে যে পেট চলে না/ অর্থনীতির চাকা এরাই চালু রাখে/ এদের কথা কোনো কাহিনী, কোনো ইতিহাসে লেখা হয় না/

ALCATRAZ এর ভালো বিক্রি আছে/ প্রচুর ভিসিটর দেখলাম/

সাব্বু তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে/ তাড়া কর/ এগিয়ে চলেছি আমরা/ ডানপাশে অনেক অনেক লাঠি কাঠি উঠে আছে আকাশে/ ঝাঁকে ঝাঁকে দাঁড়িয়ে রযেছে নৌকো, ফেরি/ রাস্তা থেকে তাদের টিকি দেখা যাচ্ছে/

যত কাঠি দেখা যাচ্ছে, সব ফেরি
 ঐতো PIER39 / এই জায়গাটা যে ঠিক কি? সব কিছু আছে/ আমাদের GATE WAY OF INDIA-র মত একটা জায়গা/ চূড়ান্ত টুরিস্ট স্পট/ সব কিছু সাজানো রযেছে/ বেছে নাও/রাস্তায় গান, নাচ, খাওয়া দাওয়া টুরিস্ট আর টাউট/ কিছুই করতে ভালো লাগছে না? চুপচাপ বসে থাক রাস্তার ধারে/ কেউ বিরক্ত করবে না/ দেখছিলাম কেউ খুশিতে আর কেউ মন খারাপ করে বসে আছে/ বেশ কিছু ফ্যামিলি দেখলাম হই হই করে মজা করছে/ আকাশ তো নীল নীল নীল/ তাতে আবার মিঠে রোদের হাই লাইটার লাগানো/ এটাকেই বোধয় বলে টুরিস্ট ওয়েদার/ খালি ঠান্ডা কামড় দেওয়া হওয়াটা একটু কম থাকলে খুশী হতাম/ ঢুকব ঢুকব, ঢুকব না ঢুকব না করেও আমরা ঢুকেই পড়লাম পার্কিং লট-এ/ মা আর দিততা ওকে সাজিয়ে গুজিয়ে ঢেকে ঢুকে তৈরী করতে ব্যস্ত/




আমি দেখছিলাম চারপাশ/ ল্যাম্প পোস্টে হেলান দিয়ে দাড়িয়ে পকেটে হাত গুঁজে অলস চোখে দেখছে বেঞ্চে বসে সময় কাটানো জোড়া জুরি, রঙিন ফুলে মোহিত চোখে হেঁটে আসা বাবা মা মেয়ে, খুটেখাওয়া পাখি, আই ফোনে চোখ রেখে দিশে হারা পথিক কিম্বা "আর কি বাকি রয়ে গেল" চোখে ছটফটে প্রনয়ী যুগল/



শিশু কিন্তু সুস্থ নয়/ নাক দিয়ে ঝরছে জল/ শরীর খারাপ লাগছে নিশ্চয়ই, ঘ্যান ঘ্যান করছে/


দাদু ঠান্ডায় একটু কাবু/ তাবলে এত্ত যে ঘুড়ির সম্ভার দেখবে না একটু? আমিও দাড়িয়ে পড়ি/  ঘুড়ি তো অনেক উড়িয়েছি/ তাবলে এমন ঘুড়ি তো তখন ছিল না/ আমাদের ছিল মোমবাতি, ঘয়লা, পেট কাট্টি, চাঁদিয়াল এমনি সব ঘুড়ি/ এখানে দেখো গাড়ি ঘুড়ি, পাখি ঘুড়ি, ড্রাগন ঘুড়ি/ আচ্ছা এদের সুন্দর সুন্দর নাম দেয় কি ছেলে মেয়েরা? না বোধহয়/ এরা দু একদিন ঘুড়ি ওড়ায়, প্যাঁচ খেলে না, কত বড় ঘুড়ি হলো আর কত দামী এতেই আনন্দ/ ঘুড়ি গুলো কিন্তু দেখার মত/



 সাব্বুকে একটু বুঝিয়ে সুঝিয়ে গাড়িতে বসিয়ে নেওয়া হলো, চলো আততা যাব/ আমরা হাঁটা দিলাম সেই জেটিটার দিকে যেখান থেকে নৌকো ভ্রমন শুরু হয় আর যারা টিকিট কেটে অপেক্ষা করছে তারা আরও একটু খরচ করলে দেখতে পাবে সিল মাছের খেলা/ বিকট গন্ধ/ বেশ ভালো ভিড় ভাট্টা/



একটু ওপাশে FISHERMAN WHARF / বাংলা করে বললে জেলে পট্টি/ এরা প্রথম থেকেই এখানে আছে/ পুরীর সমুদ্র সৈকতে দেখা জেলেদের মত মোটেই খালি গায়ে নেংটি পড়া জেলে নয়/ এই সহর পত্তন হবার আগে থেকেই এরা, এদের বাপ ঠাকুরদা এই ব্যবসায়/ এখন অনেক আধুনিক হয়ে গেছে মাছ ধরা/ সে পুরি হোক আর দিঘা, জুহু হোক বা গোয়া, জলের ধারে এলে মাছ বা সামুদ্রিক খাবার খাবেই/ এখানেও ব্যতিক্রম নেই/ সার সার হোটেল সবারই স্পেশালিটি সি ফুড/ খাও/ জায়গায় জায়গায় বড় বড় করে লেখা DUNGENESS CRAB / বড় বড় কাঁকড়া / বেশ বড় হয়, আট দশ ইঞ্চি! দশটা পা/ এরা বেশ মাংসল হয়/ রান্না নিয়ে ঝামেলা নেই/ জ্যান্ত দেখিয়ে দেবে/ বল কোনটা, তুলে ফেলে দেবে ফুটন্ত গরম জলে/ মিনিট পনের, পরিষ্কার করে একদম গোটাটাই দিয়ে দেবে টেবিলে/ সঙ্গে দেবে একটু টক টক পাউরুটি, ছোট হাতুড়ি, একটা খোচানোর সরু কাঠি মত, একটা ছোট সাড়াশি/ মানে কাঁকড়ার খোলা, ঠ্যাং ভাঙ্গার যন্ত্র পাতি/ দূর বাবা, কাঁকড়া খাব করমড়িয়ে, দাঁত নেই নাকি!


এখানে টুরিস্ট দের জন্য যা যা রাখা যায় সবই আছে/ মিউজিয়াম, মেমোরিয়াল, ভাঙ্গা সাবমেরিন এই রকম হরেক আয়োজন/ আমাদের জন্য ও সব নয়/ সাব্বুর  দয়াতে এইটুকু হয়েছে/ বস এবার আবার খেপে উঠেছেন, চলো বাড়ি চলো / সেও কি কম রাস্তা? এখন রাস্তা কেমন পাব জানিনা/ মামন দীর্ঘ শ্বাস ছেড়ে বলল আমার ভাগ্যে চায়না টাউন নেই/ প্লান করে রেখেছিলাম ফেরার পথে আমরা চায়না টাউন-এ রাতের খাওয়া সেরে ফিরব/ সে হবার নয় যা দেখছি/


আমরা ফেরার পথে/ আকাশে ইলেকট্রিক তারের কাটাকুটি দেখছি, আর দেখছি বল্লমের মত সরু অফিস বাড়ি/ মনোযোগ দিয়ে এই অফিস সহরের অফিস বাড়ি গুলো দেখতে পারিনি। মনে আবছায়া ছবি আছে, সুন্দর সুন্দর বাড়ি আছে কিন্তু। আমরা তেমন করে অফিস চত্তরে যাই নি। ও পাশটা তো টুরিস্ট দের বেড়ানোর জায়গা নয়। এখানে যেমন একটা চকলেট কারখানাও দ্রষ্টব্য, কারণ ওখানে গাড়ি থামিয়ে গরম গরম চকলেট খেতে পারো ; খায় ও সবাই। অফিস এলাকা তেমন নয়। আফশোস নেই।

চায়না টাউন অনেক পুরনো ইতিহাস ধরে আছে/ প্রায় দুশ বছর আগে এখানে যখন রেল আর পোর্ট এর কাজ চলছে, তখন থেকেই এখানে চিনে শ্রমিক আসতে শুরু করে/ যেমন যে কোনো দেশেই হয়, বাইরে থেকে আসা লোকেরা এক জায়গায় একসাথে থাকতে চায়, এখানেও তেমনি আসতে আসতে ছোট একটা জায়গায় চিনে শ্রমিকরা থাকতে লাগলো/ এক সময় সকারী নিষেধ হলো কোনো চৈনিক শ্রমিক পরিবার নিয়ে আসতে পারবে না/ বাড়তে লাগলো ছোট জায়গায় অনেকের একসাথে থাকা, গণিকালয়, নেশা, জুয়া/ একদম আইন কানুন ছাড়া বিশৃঙ্খল অবস্থা/ অনেক খুনোখুনি, পুলিশি বন্দোবস্ত করেও এখানকার ড্রাগ আর স্মাগলিং বন্ধ করা যায় নি/ প্লেগ আর ভূমিকম্প সেই কাজটা করে দেয়/ আজকের চায়না টাউন ধংসের ওপর গড়ে ওঠা/ এটা আমেরিকার সব চেয়ে ঘনবসতি এলাকা/ একদম নিজের মত চলে, নিজেদের শাসন ব্যবস্থাও নাকি আছে/ একদম এক অক্ষর ইংরাজি না বলেও এখানে স্বচ্ছন্দে কাটিয়ে দেওয়া যায় জীবন/ চিনে ভাষাটা জানতে হবে! যা কিছু চিনে পাওয়া যায়, সব এখানে মেলে/ এখন চিনেরা অনেক ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকলেও সবাই দূর দূর থেকে এখানেই আসে বাজার করতে/ ফলে সপ্তাহের শেষে সে এক বিশ্রী ব্যাপার হয় গাড়িতে, লোকে, জ্যামে/ সাব্বু ঝামেলাটা একটু কমিয়ে এনেছে/ তার সব টুকু কৃতিত্ব তার দিততার / আলো ওকে ভুলিয়ে ভালিয়ে বাচ্চাদের ছোট ছোট খেলা আর খাওয়া দিয়ে একটু শান্ত করে এনেছে/ আমি রাস্তার নাম দেখে মামানকে জিগ্গেস করলাম চুপি চুপি:
কি রে রাস্তার নাম দেখে মনে হচ্ছে চায়না টাউনের দিকেই চলেছিস?
বেরিয়ে আমাদের I80 ধরতেই হবে/ যাবার পথে যদি পরে/ আর এখন তো ও একটু মেজাজেই আছে/
বুঝলাম/ কিন্তু ঢোকার রাস্তা ঠিক পাওয়া যাচ্ছে না/ সব রাস্তা এক মুখী/ বেশ ফাঁকাই রাস্তা, একজোড়া কপোত কপোতী হেঁটে-ই চলেছে ওদিকে / গাড়ি লাল বাতিতে দাঁড়িয়ে গেলে, কাচটা একটু নামিয়ে জিগ্গেস করলাম:
চায়না টাউন টা কোন দিকে বলতে পারো?
ওরা তো হেসে গড়িয়েই  পড়ল-- আমরাও খুঁজছি যে/
গেরো/ চলো, ঠিক খুঁজে নেব/
গাড়ি থামাও, থামাও এক্ষুনি/ পেছন থেকে আলো/
কি হলো? হুট করে থামানো যায় এই রকম?
থামাও, থামাও/ দেখছ না সাব্বু বিষম খেয়েছে/ এই দেখো বমি করতে শুরু করলো/
গাড়ি থামিয়ে ওকে একটু পরিষ্কার করে আর একজন কে জিগ্গেস করলাম/ ততক্ষণে কিন্তু চারপাশ চিনে হয়ে গেছে/ বাতলানো পথে চলতে শুরু করার একটু পরেই আবার কাশতে শুরু করেছে শিশু/ মামানকে বললাম,
প্রথম হোটেলে দাঁড়িয়ে পরো/
ভাগ্য ভালো, বলতে বলতে দেখা গেল ডানপাশের পার্কিং থেকে একটা গাড়ি বেরিয়ে আসছে/ টুক করে গাড়ি লাগিয়েই  আমরা হুড়মুর করে ঢুকে গেলাম হোটেলে/ একদম মাঝারি মানের একটা হোটেল/ আমাদের পাইস হোটেলের মত/ দেখতে নয়/ যেমন লোকেরা খেতে বসেছে, তাই দেখে আমার মনে হলো/ মালকিন এগিয়ে এলেন/ আমরা বললাম, শিশুটির  একটু যত্ন চাই/ ওয়াশ রুম কোথায়/
আমাকে বার দুএক বাইরে যেতে হলো গাড়ি থেকে ওর দরকারী জিনিস পত্র আনতে/ ওকে একটু থিতু করে আমরা খাবার দাবার অর্ডার করে দেবার পর মালকিন এসে বললেন
গাড়ি কোথায় রেখেছ? পার্কিং স্লট-এ পয়সা ফেলেছত?
সত্যি-ই তো / মামন ছুটল/ হাতে একটা খাম নিয়ে ফিরে এলো/ আমাদের কপাল খারাপ/ $65 ফাইন লেগে গেছে/ মালকিনের সাথে অনেক আলাপ চারি হচ্ছিল/ ওর  অনেক প্রশ্ন, আমরা কথা থেকে এসেছি, কি খাই, কপালে লাল টিপটা কেন ইত্যাদি/ আমাদের বস সাব্বু সঙ্গে থাকলে অনেক লোক আমাদের সাথে কথা বলতে আসেন/ সবাই শুরু করেন ওমা! কি মিষ্টি দিয়ে/ আমাদের ওনার CV বলতে হয়/ আলাপ হয়ে যায়/ তারপর বস একসময় আদেশ দিয়ে দেন : 
তা তা আত তা/
মানে এই বার চলো/ কাউকে অবশ্য মাঝে মধ্যে লম্বা করে জিভ দেখিয়ে দেন, কেন আমরা জানি না/ উনি তো কাউকে জবাব দিহি করেন না! তা এই মালকিনের সাথেও ওনার আলাপ চলছিল/
ভাবলাম, বলবেন-ই যদি, একটু আগে মনে করিয়ে দিলে হত না! আমি গিয়ে বাইরে দাঁড়ালাম / যদি দেখতে পাই, বলতে পারব, আমরা কি অবস্থায় পড়েছিলাম.../ সেতো হলো না/ ভাবছিলাম আমি নিজেই তো তিন বার এলাম টুকিটাকি বার করতে, কাউকে দেখলাম না! পার্কিং মেশিনে -এ কি লেখা আছে পড়ছিলাম / একজন চিনে বুড়ি এসে আমাকে চিনে ভাষায় হাতপা নেড়ে শিখিয়ে গেল অপরাধ কি/ ভেবে দেখলাম খুব সুন্দর নিয়ম/ এখানে রাস্তায় অনেক ঢাল/ পার্কিং এর নিয়ম ডানদিকে পার্ক করলে ফুটপাথ থেকে একটু দুরে গাড়ি রাখো/আর গাড়ির চাকা ডান  দিকে ঘুরিয়ে ফুটপাথের সাথে লাগিয়ে রাখো/ বাম দিকে হলে বাম দিকে ঘুরিয়ে লাগিয়ে রাখতে হবে চাকা/ দেখলাম হাঁ, সবাই সেই রকম করেই রেখেছে গাড়ি/ ঢালে যাতে গড়িয়ে না যায় গাড়ি তাই এই ব্যবস্থা/
ওরা একটু বাদেই বেরিয়ে এলো/ চলো, আর এখানে বসে খাবার মুড নেই/ অর্ডার করেছিলে না? হাঁ, প্যাক করে নিলাম/ মালকিনকে বললাম, বললে যদি আর একটু আগে বলতে/ বলে, যাক গে/ কমের ওপর দিয়ে গেছে/ টো করে নিয়ে গেলে $500 / তোমরা বাইরে থেকে এসেছ, সঙ্গে বাচ্চা, কোথায় কোথায় ঘুরতে বলত? কমের ওপর দিয়েই গেছে/ সাবধানে যেও/ চলো/ সরু রাস্তা/ মনটা খিচরে গেছে/ তবু চোখ এড়ালো না, একদম ঢাকুরিয়ার কোনো সরু রাস্তায় যেমন দোকান লাগানো থাকে, বা গড়িয়াহাটে  ফুটপাথে, বা বরিভিলি...তেমনি/ ঘরকন্নার সব পাওয়া যায়/





আর চারপাশে ইংরিজি আর  চিনে ভাষায় সব রকম বিজ্ঞাপন/ চোখ টানলো আইন আর আকুপান্ক্চার/ সব রকম ব্যথার উপশম আছে/ হাঁ গো, মনের ব্যথা সারাতে গেলে কোথায় ছুঁচ ফোটাও তোমরা?


অচিরেই আমরা বাড়ির পথে/ খেয়াল হলো যখন আবার BAY BRIDGE এ উঠে পড়েছি। এই, অন্যরকম লাগছে কেন। একটু দেরী হলেও বুঝলাম আকাশ দেখা যাচ্ছেনা।এই সেতু দোতলা। ওপর দিয়ে এস, নীচে যাবার রাস্তা। দুপাশে এখন দেখার কিছু নেই। উচু উচু মেশিনের হাত পা দেখা যাচ্ছে।

কিন্তু এত বড় পোর্ট, এত মালপত্র, মেশিন, কাজ হচ্ছে না কেন? এখানে তো দিন রাত কাজ হবার কথা। যাক গে, পোর্ট দেখেই বুঝলাম, ঠিক পথে আমরা। OAKLAND ফেরত যাচ্ছি/ সাব্বু ঘুমোচ্ছে।

না দেখা রইলো রাতের আলোয় কেমন দেখায় ওই ব্রিজ দুটি/


সাব্বু বেশ কাহিল/ Dr আলো ঘোষ দস্তিদার তেল শুশ্রুষা করছেন/ সকাল থেকে আমরা চিন্তিত/ আজ তাহলে আর কথাও বেরোব না আমরা/

দুপুরের খাওয়া দাওয়া একটু তাড়াতাড়ি হযে গেল/ আমি দুএক বার বাইরে চক্কর মেরে এলাম/ সেই লোকটির দেখা পেলাম না/ আর কিছু কথা জেনে নেওয়া যেত! আজ তো কোথাও বেরোব না আমরা!

একটা নাগাদ দেখা গেল বস দারুন মুডে আছেন/ ডাক্তার মাদাম কে অনেক ধন্যবাদ/ আমরা ভয়ে ভয়ে প্লান করে ফেললাম বেরোব/ উনিও মোট দিলেন/কিন্তু বেশীদুরে যাওয়ার অনুমতি দিলেন না/কোথায় যাওয়া যায়? যা আমাদের মনে মনে ছিল একটু দুরে/ কাছে পিঠে কোথাও বেরিয়ে এলে হত/ ঠিক হলো একটু জঙ্গল সাফারি করে আসা যাক/ যাওয়া আসা ঘন্টা দেড়েক/ আশা করা যায় কোনো অসুবিধায় পড়ব না/ সঙ্গে সাব্বুর খাবার ওষুধ রইলো/


ভারী মনোরম পথ

পাশের COUNTY SAN  LEANDRO / কাছেই, তাই আমরা ভালো করে ম্যাপ দেখিনি/ চলে যাব ঠিক/ ছোট একটা খারি মত পেরিয়ে দেখলাম কল কারখানার এলাকা/ ঠিক যাচ্ছিত রে বাবা? এই কুন্ত্য়টা একটু গরিব এলাকা মনে হলো/ একটু বাদেই রাস্তা ফাঁকা হতে শুরু করলো/ বুঝলাম পাহাড়ের দিকে চলেছি/ দেখেই বোঝা যায় এখানে জমির লড়াই চলছে/ পাহাড়ের কাছে, পাহাড়ের কোলে কষ্ট করে যারা এতদিন ছিল তাদের চলে যাবার সময় হয়েছে / বড় বড় সহরে যখন বাড়বাড়ন্ত হয়, অনেক লোক আসতে শুরু করে রোজগারের আশায়, জমি কম পরে/ সহর সীমানা ছাড়িয়ে বাড়তে চায়/ সহর থেকে দুরে একটু প্রকৃতি পাহাড় বা জলার কাছে যারা এতদিন ছিল, তাদের জমিতে লোভী জমি শিকারীদের চোখ পরে/ তাদের কেউ চলে যেতে বলে না, বলে তোমার জমির জন্য এই এত দাম দেব/ একটু ওপাশে গিয়ে একটা সুন্দর ঘর করে নেবার পরও তোমার হাতে অনেক টাকা থাকবে/ শান্তিতে থাকো/ সেই গরিব গুর্বোরা অত টাকা দেখেনি কোনো দিন/ ভিটে মাটি ছেড়ে চলে যায়/ কদিন বাদে ওখানে গড়ে ওঠে উচু ইমারত/ শহরের ছবি পাল্টাতে থাকে/
এখানে বুঝলাম কি করে?

 খুব সোজা/ যে বাড়ি ঘর পেরিয়ে আমরা চলেছি পাহাড়ের দিকে, পাশাপাশি  দুটো বাড়িতে এত তফাত! দেখলেই বোঝা যায় এটা নতুন বাড়ি/ পাশের জন কযেক পুরুষ ধরে আছে, এখনো ভিটে মাটির মায়া ছাড়তে পারে নি/ লড়াই চলছে/ এমনতর পাঁচমেশালী এলাকা পেরিয়ে আমরা হঠাত  একদম   পালিশ করা এলাকায় এসে পরলাম/ বড়লোকি এলাকা/ বাড়ি ঘর দোর বাগান/ চোখের আরাম/ কখন যে রাস্তা নয়ন মনোহর হয়ে  গেছে খেয়াল ই  করিনি/ দুপাশেই পাহাড়, ছোট/ বিশাল বিশাল গাছ/ বড় 
বড় গাছের ভিড় থাকলে ঠিক জঙ্গলে ঢুকছি এমন গা ছম ছম থাকে না/ এখানেও ছিল না/ আমেরিকাতে জঙ্গলে 

যাবার এই একটা খারাপ দিক/ এত বেশি ইনফরমেসন, ভালো লাগে না/ বলে দেবে সব খোলা খুলি এই আছে, এই নেই/ আরে বাবা যে জঙ্গলে বাঘ নেই, সেখানেও বাঘ আছে, এসে পড়তে পারে যখন তখন --- এই সব মনের মধ্যে পুষে রেখে সারাদিন বেশ কেটে যে/ এখানে সেই বালাই নেই/শুধু বার বার নোটিস দিয়ে সাবধান করা আছে, এখানে গাড়ি রেখো না চুরি হতে পারে/ বোঝাই যায় একটা টলোমলো এলাকা/ বড় লোক গরিব লোকের মিশালী এলাকা/ চুরি চামারি ছ্যাছরাম হবে/ তার-ই
নিশানা/ পথে যেতে যেতে ডান পাশে পাহাড়ের ঢাল বেয়ে নেমে গেছে পায়ে চলা পথ, মনটা নিসপিস করে না একটু হেটে আসি, দেখে আসি কি আছে? থামালাম গাড়ি/ আমরা একাই/ আর কোনো গাড়ি নেই/ আলোত ভয় একটু বেশি পায়, সব সময়/ না আমি নামব না/ আমি আর আমার মেয়েটা একই রকম শুনতে পাই এই ডাকটা/ নেমে পরলাম/ আমার তো চোখে পড়েছে নোটিস, এগিয়ে চলেছি/ সুরি পথ/ দু পাশ ই গাছে গাছে ছাওয়া/ওপাশ দিয়ে ঝির  ঝির করে জল পরার আওয়াজ আসছে/ একা একা হেঁটে চলেছি, পেছন থেকে ভেসে আসছে বেশি দুরে যেও না....



না না এটা সেই রাস্তা নয়/ সেখানে বাঁ পাশে বেশ অনেকটা জমির ঘাস একদম মিশে ছিল মাটির সাথে/ বেশ অনেকটা জায়গা, দেখেই কেমন যেন মনে হলো বেশ বড় একটা বাইসন একটু আগেও বসে ছিল ওখানে!  এই রাস্তা তো বনবিভাগের করা/ এখানে এসে আমরা গাড়ি পার্ক করে নেমে পরলাম নির্ভয়ে/ আর দু চার খানা গাড়ি পার্ক করা আছে/




















আমরা তৈরী হয়ে বেরিয়ে পড়লাম আমরা/ ওনার গাড়ি সাথে এনেছিলাম/ ওতটা পথ, কত টা জানিনা, ওকে তো কোলে করে নিতে পারব না, তাই গাড়ি/ চলবে? এত আর বাঁধানো রাস্তা নয়/ দেখা যাক/

এই সেই RED  WOOD গাছ/ কালিফোর্নিয়া র GOLD  RUSH এর গল্প সবাই শুনেছে/ যারা সব এলো সোনার খোঁজে জীবনের সর্বস্ব পন করে, যখন সোনা পেল না, ফেরার রাস্তাত বন্ধ--- ওরা এই মস্ত মস্ত গাছ কাটতে শুরু করলো/ এই গাছ প্র্রিথিবির সবচেয়ে লম্বা গাছ/ ৩৫/৪০ তলা বাড়ির সমান উচু হয়/ একদম সোজা আঁশ / টা বাড়ি বানানোর কাজে প্রচুর ব্যবহার হয়/ এখানে একদম বড়লোক ছাড়া কারো বাড়ি কিন্তু ইট পাথরের নয়! বললে বিশ্বাস হবে না, সব কাঠের তৈরী/ ঠিক যেমন করে আমাদের কারিগরেরা পুজোর সময় মস্ত মস্ত ইমারত তৈরী করে ফেলে, একদম সেই রকম করে করা/ প্রচুর কাঠ লাগে/ দেয়ালে পেরেক ঠুকে পুততে হয় না, আঙ্গুল দিয়ে একটু চেপে দিলেই লেগে যাবে ফুটো হয়ে/ সে আর এক কাহিনী, অন্য কোনো সময় বলা যাবে খন/ সেই কাঠ কাতার ধুমে সব RED  WOOD শেষ হতে চলেছিল/ বহু কষ্টে অনেক আইন কানুন করে বাঁচিয়ে রাখা হয়েছে এই গাছ/ এখন অনেক রিসার্ভ এরিয়া আছে, হেরিটেজ পার্ক   আছে/ আর তো চিন্তা নাই রে/


বাব্বা কত উচু 











অনেক বছর বাঁচে এই গাছ/ আমরা জানি বৃদ্ধ বট / বলে কি এরা নাকি বটের চেয়ে বেশি বছর বাঁচে? নাহ, খোজ নিতে হয়/ বট  কি হেরে যাবে?
আমি কিন্তু খুঁজে দেখেছি, সঠিক জবাব পাইনি/ এরা অনেক লম্বা হয়, অনেক বছর বাঁচে, সব ঠিক আছে, বটের থেকে বেশি দিন বাঁচে কিনা এটা জানা জরুরী /

বিশালতা ঠিক বর্ণনা করা যায় না, 
পুরো একটা গাছের ছবি তলার মত কামের আমাদের কাছে ছিল না/ অনেক রকম করে ছবি তুলে তারপর একদম কাছে গিয়ে একটা ছবি তুলে নিলাম/
একদম কাছ থেকে 
এই গাছের পাশেই প্রকৃতির আর একটা খেলা দেখলাম/ একসাথে অনেক গাছের চারা  উঠেছে/ দেখো, কেউ এখানে জল দেয় না, কেমন তরতাজা সব কটি ! পাশে ছোট্ট একটি সোতা  আছে জলের/ নদী বলা যাবে না/ তবে মাছ ধরার নোটিস দেওয়া আছে/ লোকে টিকিট কেটে মাছ ধরতে আসে/ অনেক সাবধান বাণী লেখা আছে, বেশি মাছ ধর না ওদের বাঁচতে দাও ইত্যাদি/ অনেক দিকে অনেক বোর্ড দেওয়া আছে, এদিকে হাঁটা পথ, ওদিকে পাখি পথ, ওদিকে মাছ  পথ / পিকনিকের রাস্তা ওদিকে/ কাঁধে রুকস্যাক নিয়ে এখানে পুরো একটা দিন কাটাতে পারলে বেশ হত/


তাজা সবুজ, গা ঘেঁষে  বসে থাকতে ইচ্ছে করে

ফুল দেখলাম অনেক/ পাখি কম/ মামন বলল পাখি দেখতে হলে পাপা আমাদের আরও ওপরে উঠতে হবে/ সেটা আর হলো না এই বেলা/ বারটি পাওয়া গেল ফল/ হঠাত আবিষ্কার করে উত্ফুল্ল হযে  উঠলাম/ আরে এটা ব্লু বেরি না!! এই, এদিকে এস দেখে যাও, দেখে যাও, মনে হচ্ছে ব্লু বেরি/ হাঁ , ঠিক তাই/ প্রবল উত্সাহে আমরা ছবি তুললাম প্রচুর/

 ফেরার পথে বার বার মনে হল উহু ঠিক হলো না/ জমল না আলাপ/ অতৃপ্তি রয়ে গেল/ অতৃপ্তি থাকলে আবার  ফিরে ফিরে আসতে হয়/ এখানে তো আর আসার কথা নেই! বেরোনোর মুখে দেখলাম আমাদের ডান দিকে যেতে হবে, বাম দিকে একই রকম দুরন্ত হাতছানি দিয়ে চলে গেছে একটা রাস্তা/ সেই নরম ঢালে উঠে গেছে রাস্তা, দুপাশে অনামী গাছের অলংকার পরে মস্ত মস্ত RED  WOOD দাড়িয়ে/ একটু সোজা গিয়ে মুরে গেছে ডান হাতে  আরও অজানার ইশারা  দিয়ে/ যাওয়া হলো না এ বেলা/ তোমাকে কথা দিতে পারলাম না অরণ্য আবার এসব বলে/ এখন আমার ইচ্ছা আমার মুঠোয়  নয়/ ভালো থেকো  তুমি, দেখে গেলাম আর অসুখ নেই, নেই কোনো ভয়/ ভালো থেকো /



সাব্বু একদম ফিট এটা বলা যাবে না/ আমরা ইতস্তত করছি/ আজকের প্ল্যান লম্বা/ অনেকটা রাস্তা/ দোলাচল, যাব কি যাব না/ কাল একদম ভোর ছটায়  আমাদের ফ্লাইট/ সাব্বু সুস্থ না থাকলে মুস্কিল/ ওর মাতো যাবে না/ আমরা বুড়ো বুড়ি সামলাতে পারব না সুস্থ না থাকলে/ আবার আজই শেষ দিন/ আজ না গেলে আর যাওয়া হবে না, কবে আবার এসব কালিফোর্নিয়া? ঠিক হলো যাব আর আসবো/ অনেক লম্বা ড্রাইভ/ মামন বলল,
চলো চলো, সঙ্গে খাবার থাকবে আর ডাক্তার মাদাম তো আছেন-ই/ CA1 , গেলেই বুঝবে কি জিনিস/
তুই গেছিস আগে?
হাঁ, গো, চলো এখন বেরিয়ে পড়ি/ এই মেয়েটার অসীম আত্মবিশ্বাস/ সত্যি, না গেলে মিস হয়ে  যেত জীবনের মস্ত একটা অভিজ্ঞতা/ প্রশান্ত দার সাথে দেখা হত না/ ছোঁয়া হত না প্রশান্ত মহাসাগরের জল/

বেরোলাম সকাল দশটা।রাস্তায় ঘর প্যাঁচ নেই/ 880S  আর তারপর 17S / আমরা ভরপুর দক্ষিনে যাচ্ছি/ সাব্বুকে দুটো তিনটে স্তরে জামা পরানো হলো, সঙ্গে DELTA  র দেওয়া কম্বল/ ফ্লাইটে নামার আগে ওরা বলল, KEEP  THIS  BLANKET , SHE  MIGHT  FEEL  COLD / THANK  YOU / এই সেই কম্বল আমার হাতে।
আমাদের তাড়া আছে/ আমরা প্রায়োরিটি লেন-এ/ গাড়িতে দুজন থাকলে তবেই এই রাস্তা ধরা যায়/ আমরা তো  চারজন/ নিয়ম না মানলে মস্ত ফাইন!$২৭১! এখন চোখ কান বুজে চলো ৩৫ মাইল/ SAN  JOSE র দিকে / পথে দেখলাম FLEA  মার্কেট এর নোটিস দেওয়া/ এটা একটা মজার ব্যাপার/ মামন বার বার করে বলেছে একবার অন্তত চলো, ওর ও যাওয়া হয় নি/ এটা হাট বলা যেতে পারে আমাদের ভাষায়/ যারা আমেরিকার বা যেকোনো জায়গায় পরিষ্কার ঝাঁ চকচকে দোকানে গিয়ে অভ্যস্ত তাদের কিন্তু প্রথমেই মনে রাখতে হবে যে, এটা মাঠের বাজার, নোংরা/ যে কেউ গিয়ে দোকান লাগিয়ে বেচতে পারে/ সকাল আটটার আগে যেতে হবে/ যা খুশি বেচতে পারো/ ওরা একটা ফী নিয়ে জায়গা দিয়ে দেবে/ সব চেয়ে মজার কথা হলো দরাদরি হবে/ সকাল আটটা থেকে রাত আটটা/ যাবার সময় যারা দোকান লাগিয়েছে, তাদের জায়গা পরিষ্কার করে যেতে হবে/ এখন EBAY ইত্যাদি হয়ে  গেছে, যখন ছিল না, লোকে পুরনো জিনিস বা শখের জিনিস খুজতে ফ্লি মার্কেট-এ যেত/ এখন যারা যায়, তাদের কাছে এটা একরকম বিনোদন/ পছন্দের কিছু পেয়ে গেলে বাড়তি পাওয়া/ দরাদরি করতে না জানলে মজা নেই/ একবার যেতে পারলে হত, দেকতাম গড়িয়াহাটের অভিজ্ঞতা কাজে লাগে কিনা! 

এই দেখো ধান ভানতে শিবের গীত! কোথায় যাচ্ছি প্রশান্ত মহাসাগর দেখতে! আমরা বেশি জোরে যাচ্ছি না/ উনি শিশুদের মত গাড়ির পেছনের দিকে মুখ করে বসে থাকবেন না CHILD SEAT -এ/ তাকিয়ে দেখো মুখের দিকে/ যেন ওই-ই গাড়ি চালাচ্ছে/ এই ছবি তুলে রাখলাম, বড় হলে কেস করব তোমার নামে/


 শুধু বেআইনি নয় বিপদজনক/ এখানে কথাও কথা 85 MPH চলে, লোকে ১০৫ ছাড়িয়ে যায়/ দেখালম নাকাউকে/ তবে আমরা রাস্তার একপাশ দিয়ে চলেছি, আমাদের বাঁ পাশ দিয়ে সাঁই সাঁই করে চলে যাচ্ছে গাড়ি/


পাহাড় ঘিরে ধরেছে দুপাশ/ রাস্তা মনোহর আর ভারী গতিময়/ নিচু খয়েরি পাহাড়ের রং/ গাছ নেই/ আকাশের দিকে তাকালে তাড়া ঝিলিক মারছে/ দিনের বেলায়? এখানে আকাশ দেখলাম ভারী ব্যস্ত/ যত বার আকাশের দিকে মুখ তুলেছি, প্লেন দেখেছি/ দুটো তিনটে পাঁচটা/ আর সময়টা এমনি সূর্যের আলোয় ঝলসে উঠছে প্লেন! ঝক ঝকে দিন/ এই যেন টাটকা ছাপিয়ে পাঠিয়ে দিয়েছেন উনি/

সিলিকন ভ্যালি মাড়িয়ে চলেছি/ গুগুল দা কি এখানেই থাকেন? আমরা FREEMONT , SAN  JOSE , SANTA  CLARA  পেরিয়ে এলাম আমরা/ চেনা নাম না? MOUNTAIN VIEW এসে গেল/ এই সত্যি এখানেই গুগুল দা থাকেন/ অন্য রকম ভাবে  প্রমান পাওয়া গেল/ প্রায়োরিটি লেন না মানলে ফাইন বেড়ে $481 / এখানে সব দামী আর ব্যস্ত লোকেরা থাকেন, তাদের সময় নষ্ট করা? পথ ছেড়ে দাও, নাহলে ফাইন দাও/ নমশুদ্র!রাজার পথে আসা! এত স্পর্ধা !

দারুন একটা হাসির ব্যাপার হলো এখানেই/ কলকাতার লোক, ইন্ডিয়া-র  লোক, খুব জোরে চলা গাড়ি থেকে HOLIDAY  INN  HOLDIRAM  হয়ে  গেল! এর পরই মুখ ঘুরিয়ে দেখলাম TRUCK  এর  ওপর রেসিং কার/ ঠিক যেমন করে ঘোড় দৌড়ের  ঘোড়া নিয়ে যাওয়া হয় যত্ন করে/ সান্তা ক্রুজ আসছে/ না না বম্বের না, এখানেও আছে/ আমরা তেল ভরে নেব/ যত আগে যাব তেলের দাম বাড়তেই থাকবে/ এখানেই 4.19 , আমরা পেছনে ফেলে এসেছি 3.50 / প্রায় ২০% বেশি! বাবা, সিলিকন ভ্যালি!




পাহাড় একদম সবুজ হয়ে গেছে, কোন ফাঁকে! রাস্তার সৌন্দর্য্য বেড়ে গেছে/ পার্টিং লাইন আমাদের করবি ফুলের মত ফুল গাছ দিয়ে করা/ কিন্তু হরেক রং/ লাল, কমলা, গোলাপী/ আমরা গ্যাস স্টেসনে জেনে নিলাম 17S পাচ্ছিনা কেন/ জানলাম আরও ২৮ মাইল যেতে হবে/ রাস্তার ঢাল বাড়ছে, নোটিস: AC বন্ধ করুন, গাড়ি গরম হবে/


আমরাই আস্তে চলছি/ ৫৫/৬০/ বোঝা যাচ্ছে না / যে স্পিডে সরির বুঝতে পারে জোরে চলছে গাড়ি সেটা বোধহয় গাড়ির জন্য ঠিক নয়/ AC বন্ধ করে আমরা জানালা খুললাম/ এক ঝাঁক বুনো গন্ধ ঝাঁপিয়ে পড়ল গাড়ির ভেতরে/ আহ! আমরা ভুল করলাম 1C র জায়গায় আমরা 1B দিয়ে বেরিয়ে গেলাম/ কি জ্বালাতন  / পরে মনে হলো ভালই হয়েছে/ যে পাহাড় কেটে যাচ্ছিলাম আমরা তার পেছনের জনজীবন দেখতে পেলাম/ কেমন ছোট ছোট বাড়ি/ সামনের ছাড়া জায়গাটা সংসারের হাবিজাবিতে ভরা/ যেমনটা হয় একটা মধ্যবিত্ত গ্রামীন বাড়ি/ আবার ওঠার সময় রাস্তার ডান পাশে দেখা গেল চকচকে বাড়ি সব/ রুচিতে বোঝা যাচ্ছে গ্রামীন বড়লোক/ এদের বাড়িতে ওপাশ থেকে কাজের লোক আসে নাকি? পূবে বড়লোক, পশ্চিমে গরিব/ ভাগ সর্বত্রই/

CA1 ধরলাম আমরা/ এই সেই ..... বেশ একটা দৃশ্য দেখা গেল/ বাবার পিঠে BYACK  PYACK , কাঁধে ছেলে/ মায়ের সামনে হোল্ড, তে মেয়ে/ পুরো পরিবার বেরিয়ে পড়েছে, আজ শনিবার/ এদের এই উত্সাহ ভারী ছোঁয়াচে  / আমাদের ঘরের ছেলে মেয়েরাও তাই বেড়িয়ে পড়ে/

প্রথম EXIT নম্বর পড়লাম ৪৩৮! এত্ত ! দুএকটা বাদে বাদেই দেখাচ্ছে ভ্যালি অথবা বীচ/ আমরা আরও ২৬ মাইল যাব, আর যা ভাবেছি আমরা ফিরে আসবো সোজা/  সাব্বু এখন ঘুমোচ্ছে/ শান্তি/

দশ বারো EXIT এসে গেছে/পাহাড় ছোট হয়ে এসেছে/ এই বাবর সমুদ্র আসবে তার মানে/ চাষ দেখা গেল/ বিশাল অন্তহীন খেত/ বুঝলাম ট্রাক্টর  দিয়ে চাষ হয়, জল দেওয়া? একটু বাদেই জবাব পেয়ে গেলাম/ পরের বার যেখানে থামলাম দেখলাম

অন্ত হীন খেত 

সেচ
পাইপ ভার পাওয়া যায়/ চাষের মরশুমে ভার দেয় যারা, তারাই লাগিয়ে দেয় ফোয়ারা, পাম্প, মোটর/ লোকজন এক দুজন, এত এত একর চাষ হচ্ছে! অনেক দুরে দেখলাম যন্ত্র পাতি লোকজন, চাষের খেতের বিস্তারে হারিয়ে গেছে/ এই হলো আমেরিকার গ্রাম/ জলে বক দেখলাম, সেও একা সঙ্গী নেই/ পুরো দেশেই কি সবাই একা এখানে? পশ্চিমে বালু পাহাড়/ তার মানে ওদিকেই সমুদ্র আসবে/ ভূগোল-ও তাই-ই বলছে/ প্রকৃতি সেই ইশারায় দিচ্ছে/ উল্টো দিকে মূর্তিমান রসভঙ্গের মত মস্ত দুটো চিমনি দাড়িয়ে/ কিসের কারখানা?


আমরা দাড়িয়ে পড়লাম/ একটু ব্রেক নেওয়া/ রাস্তার ধরে দোকান লাগিয়েছে বেশ বড় করে/ ফল মূল সবজি বিক্রি হচ্ছে/ এ যেন বাই পাস দিয়ে যাবার সময় এক জোড়া ধাপার ফুল কপি কিনে নেওয়া! পাশেই সত্যি সত্যি দিগন্ত জোড়া ফুল কপির খেত!



কি এক বুনো ফুল তার ধার ঘেসে/ আমাদের মত অনেকেই দেখলাম গাড়ি থামিয়ে কেনা কাটা করছে/ বড় বড় করে লেখা আছে কালিফোর্নিয়ার  চেরি নিয়ে যান, সস্তা/ দর  করে দেখলাম চেরি মোটেই  সস্তা নয়, AVOCADO দারুন সস্তা/ টাকায়  সাতটা, থুড়ি ডলারে সাতটা/ আমরা ডলারে একটা কিনে  থাকি!
















আমদের বাজারে দোকানদাররা  একটা বালতি নিয়ে হাত দিয়ে ছুঁড়ে ছুঁড়ে জল দেয়, কিম্বা বোতল থেকে ঢেলে ঢেলে জল দেয়, এখানে দেখলাম পাইপের মুখে একটা শাওয়ার লাগিয়ে নিয়েছে, সেই দিয়ে জল দিচ্ছে/ দাড়িয়ে দাড়িয়ে তাই দেখলাম আঙ্গুলের ফাঁকে একটা সিগারেট জ্বালিয়ে/ আহ অনেকক্ষণ বাদে সুখটান!

রোদ চরাচর জুড়ে/ কিন্তু রোদে তাপ নেই/ রাস্তার ধরে এই রকম দাড়ানোর কুফল একটা আছে/ এখানে রাস্তা এতো বড় নয় যে পার্টিং থাকবে/ ফলে একবার পার্ক  করলে আবার রাস্তায় ঢোকা একটা আতঙ্কের ব্যাপার/ ঢুকে পরলাম প্রায় মিনিট পাচেক  অপেক্ষা করার পর/

আস্তে আস্তে স্যান্ড ডিউনস দেখা দিল ডান পাশে/ হলুদ বালি/ বালি তো  হলুদই হয়/ বালির ওপরে এখানে আগাছা অনেক আর তারাই সুন্দর সুন্দর গালচে বানিয়েছে/ বাদামী, সবুজ, কালো, কমলা, বেগনে /



মাঝে মাঝে সাগর উঁকি মারছে/ ওই দেখো, নীল, নীল নীল/ সাদার লহরী সাথে/ এই প্রথম প্রশান্ত মহাসাগর দেখলাম! সাব্বু হঠাত দেখি হাত তালি দিয়ে উঠলো/ ও-ও খুশি হেছে দারুন/ আকাশে মুখ তুলে দেখি প্যারা গ্লাইডার প্লেন/ এই যে আসে পাশে এত বীচের নোটিস দেখে চলে এলাম আমরা, ওখান থেকেই উড়েছে মনে হয় আমাদেরই মত কোনো আমুদে নিয়ে/ এই উড়ানটা বেশ/ পাখির মত ভাসতে ভাসতে দেখে যাও তোমার পৃথিবীটা কেমন দেখতে/ একটু উচু থেকে দেখবে তো, দেখো ছোট খাটো ত্রুটি আর অসুন্দর কিছুই চোখে পড়বে না/ আমাদের রোজকার জীবনে এমনতর গ্লাইডার থাকলে বেশ হত না? একটু ওপর থেকে দেখতাম, ছোট খাটো দোষ ত্রুটি খামতি চোখেই পড়ত না!

শয়ে শয়ে গাড়ি চলছে/ তার মধ্যে আমরাও একটা/ হঠাত যেন গাড়ির ভিড় বেড়ে গেল/ তার মানে কোনো স্পট আসছে/ গতি কমে গেছে সবারই/ গাড়ির মাথায় সাইকেল/ লোকে উত্সাহে একদম যেন টগবগ করে ফুটছে/ গাড়ি একবার পার্ক করে আর চড়বে না/ সাইকেলেই ঘুরবে আশপাশ/ যারা সাইক্লে আরোহী তারা কি আগে এসে সাইকেল ভার নিয়েছে? হতেও পারে/ হাঁ, এসে পড়েছি/ যেন একটু বড় জংশন স্টেসন/ MONTRE  BAY / অনেকেই এখানে ডাইনে বাঁয়ে বেঁকে গেল/ আমরা একটু ফাঁকা পেয়ে দূর দার এগিয়ে গেলাম/ সবই দেখছি আছে এখানে/ এই রাস্তায় অনেকটা পেরিয়ে আসার পর মল চোখে পড়ল/ কাছেই সাগর আছে, থেকে যাও/ রাত হলে বিনোদনের দরকার পড়লে তাও আছে এখানে/

রাস্তা পাল্টে গেল হঠাত/ শহর শহরতলীর ঢং ছেড়ে আবার পাহাড়ি সরু রাস্তা / তারপরই হঠাত করে এই ফাঁকা / আর একদম হাতের ছোঁয়ার মধ্যে প্রশান্ত/ থাম থাম/ এখানেই থামবো আমরা/ নামবো/ বোর্ড লাগানো কারমেল রিভার স্টেট বীচ/ এই নামটাই আগে পড়তে পারিনি/ একটু আগে আমরা যে স্পটটা ছেড়ে এসেছি, এই নদী তীরেই ওই জন বসতি গড়ে উঠেছে/ একটু এগিয়ে এসে এই সৈকত/ সব সৈকতেই সাবধান বাণী থাকে/ ওদিকে দেখার  দরকার নেই/ আমিত হই হই করে ছুটলাম/ দারুন ঠান্ডা হওয়ার ঝাপট/
ওহো কি দেখিলাম 

অশান্ত মহা সাগর 
কে নাম দিয়েছিল কে জানে/ সুন্দর সাগর বলতে পারত! অশান্ত মহাসাগর বলতে পারত, প্রশান্ত নয় কিছুতেই/ বাংলায় শব্দ কম আছে ভাই/ নীল বললে মনে যে অনুভূতি হয়, এ নীল সে নীল নয়/ কে যেন একটা সুন্দর আলোচনার শুরু করেছিল অন্ধ লোককে কি করে বোঝাবে আলোর অনুভূতি কি রকম/ এও তেমনি/ কি করে বোঝাই আমি এই নীল রংটা কেমন ! শুধু আমি নীলে ব্যাকুল নই/ জলে অনেক রঙের সামুদ্রিক আগাছা ভাসছে/ কি দারুন একটা কোলাজ!



আমিত ছুটলাম/ জল ছুঁতে/ পেছনে বেশি দূর যাবে না শুনতে আমি অভ্যস্ত/ আলো সঙ্গে আছে/ কচুরি পানার পটকার মত নরম আগাছা মাড়িয়ে চলেছি/ তুমুল বেগে জল আসছে ধেয়ে/ আসুক / একটুত ছোঁব / নেমে পরলাম আর তখনি মস্ত একটা ঢেউ  আছড়ে পড়ল পারে/ পালা পালা/ অত তাড়াতাড়ি পিছু হটতে পারলাম না/ ভিজিয়ে দিয়েছে আমায়/ মামন ছবি তুলছিল/ প্রায় পড়তে পড়তে নিজেকে সামলে নিয়ে বললাম পারলি তুলতে? পাপা, একটু ঘাবড়ে গেছিলাম তখন/ তুমি কিন্তু পরে যাচ্ছিলে! দেখেছ ওখানে কি লিখেছে? এখানে কেউ জলের কাছে যায় না/ একটু বালির পরেই একদম ধুপ করে নেমে গেছে মাটি/ ঠিকই তো নাহলে এমন করে ঢেউ এসে আছড়ে পরে! আহা! বুক ভরা ধুকপুকানি নিয়ে ফিরে আসছি/ কিন্তু মনটা ভরে আছে রে/

এখানেই কাম্প

ওরা ছবি তুলতে ব্যস্ত/ ভাবলাম চারপাশে চোখ বুলিয়ে নি এক বার। আমাদের মত আরও ভিজিটর আছে/ কেউ কেউ তো কাম্প করে বসে পড়েছে। এখানে সুবিধে বীচের ওপর রেস্ট রুম আছে। এই একটা ব্যাপারে আমেরিকার তুলনা নেই/ মেয়েদের বেড়ানোর স্বর্গ/ এমনকি পারিসেও ভাবতে হয় কোথায় রেস্ট রুম আছে!

চলো চলো  দেরী করা যাবে না / তাড়াতাড়ি  খাইয়ে নাও ওকে/ সামনে আরও মাইল দশেক আছে/ সেই যে সুন্দর ব্রিজটা -- কি যেন নাম  BIXBY / আমাদের ব্রেক বেশিক্ষণের হলো না/ খাওয়া দাওয়ার চেয়ে বাইরে বেরিয়ে হওয়া সামলানোই দায়। নমুনা সঙ্গেই আছে।












এর পর কথা বন্ধ হয়ে যায়/ বাঁ পাশের পাহাড় কেটে বানানো রাস্তা। সরু রাস্তা, দুপাশেই গাড়ি চলছে/ তেমন চড়াই উতরাই নয়, কিন্তু একদম সমতলতো নয়! আমাদের অবাক করে দিল একটি যুবতী/ সে সাইকেলে / দুপাশে চারটে ব্যাগ ঝুলিয়েছে।কাঁধ খোলা, হাত দুটি ঢাকা/ পায়ে বেশ উচু একটা জুতো / একমনে চালিয়ে চলেছে সাইকেল।



এর পর কথা বন্ধ। দেখে যাও শুধু। কোনো কথায় কাজ নেই। অকারণে কথা খরচ হবে কিছুই বোঝানো যাবে না।

আহা



 

এই সেই BIXY  ব্রিজ/ ছোট্ট একটা ব্রিজ। পাহাড় দুটো ছিড়ে সমুদ্র ঢুকে পড়েছে। রাস্তা জোড়া হেছে হেছে এই পলকা ব্রিজ দিয়ে/ আমরা এখানেই শেষ করব/ আসার পথে POINT LOBO  TRAIL এ প্রায় জ্যামের মত গাড়ির ভিড়। পার্কিং ছাড়িয়ে গাড়ি সব রাস্তায় নেমে পড়েছে। একে সরু রাস্তা, তার ওপর ধরে পার্ক করা গাড়ি। স্পীড এমনিতেই কমে গেছে/ উল্টো দিকের পাহাড়ে  খান্ডালা ধাঁচের হোটেল। ওপর থেকে আরও একটু ভালো দেখা যাবে বোধহয়/ আমরা দাড়ালাম না/


BIXY ব্রিজ থেকে আমরা ফেরার মনস্থ করলাম। যদিও ব্রিজ পেরিয়ে পাহাড়ের বাঁকে হারিয়ে যেতে চাইছিল মন/ আর ভাই স্বপ্ন অনেক থাকে কিছু কিছু অপূর্ণ রেখে দিতে হয়/ থাক এটাও। সাব্বুকে বললাম চল বেটি এবারকার মত তোর  জন্যই  ফিরে চললাম, বড় হে তুই আবার নিয়ে আসিস/ তখন কিন্তু আমি অনেক বুড়ো হয়ে  যাবো / মনে থাকে যেন, তখন বলতে পারবে না তাড়াতাড়ি চলো , কেমন?

এতক্ষণ ডান দিকে সমুদ্র ছিল, আমিও গাড়ির ডান দিকেই ছিলাম/ বাঁ দিকে নজরই করিনি!! ওহ পাহাড়ের গায়ে সে কি রঙের খেলা! মনে খুব দুঃখ নিয়ে ফিরলাম। একদম পাহাড়ের গা দিয়ে চলেছি। এত কাছ থেকে চলতি গাড়ি থেকে ছবি তোলা যায় না/ অবশ্য চোখের চেয়ে ভালো ক্যামেরা তৈরী হতে দেরী আছে এখনো। একটাই অসুবিধে ভাগ করে নেওয়া যায়  না/



কয়েকটা  একা গাছ ফেলে গেছিলাম যাবার সময়। তাদের সাথে নিয়ে নিলাম। আবার সেই মেয়েটিকে দেখলাম রাস্তার ধারে বিশ্রাম নিচ্ছে/ কি ভয়ানক মনের জোর লাগে এই রকম পথে একদম একা / এই জোর কিন্তু আসে পথ কে ভালো বেসে, চলাকে ভালোবেসে। ওকে পেছনে ফেলে আমরা এগিয়ে চললাম। একদম গলা বুক শুকিয়ে গেছে। আবার আমরা দাড়িয়ে পরলাম একটু জলের আশায় / জল মিলল না/ মিলল না বলব না, যা পাওয়া গেল গলা দিয়ে নামবে না। আমরা সেই গেতোরেত DRINK নিলাম/ দোকানের সামনের পাইরেটকেও অফার করলাম এক গেলাস/ বেচারা  সেই কবে থেকে এখানেই দাড়িয়ে আমাদের মত কত কত ভিসিটর দেখছে!

ফেরার পথে সাব্বুর হুকুমে আমাদের আবার দাড়াতে হলো/ উনি ঠিক অনার সময় মত ব্রেক নেবেন/ অবশ্য তাতে আমারি লাভ। টুক করে একটা সিগারেট ব্রেক হয়ে যায়।আমরা থামলাম সান্তা ক্রুজে। টুক করে EXIT নিয়ে একটা হাউসিং COMPLEX-এ ঢুকে পড়েছিলাম। পাহাড়ের কোলে এদের বাড়ি/ একটা নতুন খেলা দেখলাম এখানে। বাচ্চাদের সবার চাকা দেওয়া স্লেজ গাড়ি আছে/ ঠেলে ঠেলে ঢালের ওপরে তুলছে, তারপর ওতে বসে পরে দু পায়ে সামাল দিতে দিতে হুর মুর করে গড়িয়ে পরা।


 





ওই বাঁকের ফাঁসে ফেলে এলাম মন/ চলো, ফেরা যাক/